পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামের পটিয়ায় কেমিস্ট প্রতিনিধিদের সাথে নকল, ভেজাল, আনরেজিস্ট্রার্ড ঔষধ বিপণন রোধকল্পে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পটিয়ার ইন্দ্রপুলস্থ জি. এন. কনভেনশন হলে আলোচনা সভা বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি, পটিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সভায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালী সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন কেমিস্টস্ ও ঔষধ ব্যবসায়ী পরিষদ এবং ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
আনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মাখনুওন তাবাসসুম।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ঔষধ ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক ফজলুল হক আজাদ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির পটিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম, প্রধান আলোচক ছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রাম ঔষধ ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দিকী, প্রধান বক্তা ছিলেন এম.আর.পি বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান আনিস উদ্দীন।
কমিটির পটিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি জয়দেব বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ও পল্লী চিকিৎসক মীর আরিফুল ইসলানের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কমিটির নেতা রেজাউল করিম, বাদল সিকদার, উপদেষ্টা আবদুর রাজ্জাক, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, অলক দাশ, নজরুল ইসলাম, সজল মিত্র, আবু তাহের, মোঃ ফোরকান, রনজিত দাশ, মোজাফফর আহমেদ মিন্টু সহ দক্ষিণ জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মাখনুওন তাবাসসুম বলেন, ঔষধ আইন নিয়ে কেমিস্ট ও ঔষধ ব্যবসায়ীদের জানতে হবে। এটা শুধু ব্যবসা নয়, মানব সেবার একটা প্রথম হাতিয়ার। সবার বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স থাকতে হবে।
ঔষধ ব্যবসার প্রধান শর্ত কেমিস্ট পাস করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ঔষধের উপকারীতা, অপকারীতা, একটা ঔষধের পাওয়ার গুলো সম্পর্কে জানা থাকা দরকার। এছাড়া ঔষধ কোথায় রাখতে হবে, কোন ঔষধ কতটুকু টেম্পারেসির মধ্যে রাখতে হবে তা জানা থাকতে হবে।
স্বল্প লাভের আশায় আপনারা কোন ঔষধ নিয়ম না মেনে রাখবেন না। এতে জরিমানা গুনতে হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ কোনভাবে দোকানে রাখা যাবে না। ঔষধ প্রশাসনের আইনগুলো মেনে চলছে, কোন ঔষধ ব্যবসায়ীর ক্ষতির কোন সম্ভবনা নেই। এবং এগুলো মেনে চলা খুবই সহজ।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ড্রাগ লাইসেন্স দুই বছর পর পর নবায়ন করতে হবে, এটা নবায়ন ছাড়া ব্যবসা করলে লাইসেন্স বাতিলসহ জরিমানা গুনতে হবে। ভেজাল ও নকল ঔষধ বিক্রি করলে ১৪ বছর কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
সভায় বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ বলেন, আগে নকল ভেজাল আনরেজিস্ট্রার্ড ঔষধগুলো ছিল না। কিছু অসাধু ঔষধ ব্যবসায়ীর কারণেই এসব ঔষধ বাজার দেওয়ার জন্য একটি চক্র এগুলো তৈরি করছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন হতে হবে।
