রবিবার | সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ নাশকতার পরিকল্পনায় নির্মল, নেপথ্যে নানা অভিযোগ

ট্রাভেল ব্যবসার আড়ালে অর্থ আত্মসাত ও ভারতে অর্থ পাচার

নাশকতার পরিকল্পনায় নির্মল, নেপথ্যে নানা অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনায় নেপথ্যে থেকে সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে নির্মল কৃষ্ণ সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তিনি সভা-মিছিল সংগঠিত করা, লোকজন জড়ো করা এবং বিভিন্ন কর্মসূচিকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখছেন। ৫ আগস্টের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও নির্মলের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি নিজেকে নির্যাতিত দাবি করে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়াকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করে জনমত তৈরির পাশাপাশি আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ একটি মহলকে পুনরায় সক্রিয় করার কৌশলের অংশ হিসেবে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে। এদিকে সড়ক ও জনপথের (সওজ) ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে নিয়েছে কমল সরকারে নেতৃত্বে একটি চক্র। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ডেমরা থানার সাইনবোর্ড এলাকার ডগাইর মৌজায় এ জমির পরিমাণ ১ দশমিক ৭১ একর। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এ নিয়ে মামলা চলমান।
নির্মল কৃষ্ণ সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকা-৫ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন নির্মল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি তাদের। এমনকি ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে দেশ ছাড়তে সহযোগিতা এবং ভারতে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ রক্ষায় নির্মল ভূমিকা রাখছেন-এমন অভিযোগও রয়েছে। হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পাশাপাশি নির্মল ও তার সহোদর কমল সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ট্রাভেল ব্যবসার পরিচয় ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন। এভাবে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাভেল ব্যবসার পাশাপাশি দুই ভাই জমি কেনাবেচা ও জমির মধ্যস্থতার সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে বিরোধপূর্ণ সরকারি জমির মালিকানা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কমল সরকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
টাকা ফেরত না দেওয়া বা প্রতিশ্রুত কাজ না হওয়ার পর এসব ব্যক্তির সঙ্গে তাদের একাধিকবার বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।
নির্মল ও কমল সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দুই ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের একটি অংশ ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার এবং সেখানে তাদের বিপুল অর্থ-সম্পদ রয়েছে।ডিজিটাল ম্যাপ দেখুন
তবে ভারতে সম্পদ থাকার বিষয়টি এবং বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির দলিল কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন।
ডেমরার পাড়াডগাইর শ্মশান মন্দিরের সভাপতি থাকাকালে নির্মল কৃষ্ণ সরকারের বিরুদ্ধে মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ ও বিগ্রহের গলার স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগ ওঠে বলেও স্থানীয়দের দাবি।
তাদের ভাষ্য, এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিস হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করে মন্দির থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনার লিখিত নথি বা মামলা থাকলে তা দিয়ে অভিযোগটি যাচাই করা প্রয়োজন। অবৈধ অর্থ লেনদেনের ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নির্মল ও কমলের মধ্যেও বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে দুই ভাই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অর্থ ও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরোধ দীর্ঘদিনের।
নির্মল কৃষ্ণ সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ যেমন উঠেছে, তেমনি তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নির্মল ও কমল সরকারের আর্থিক লেনদেন, দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদ, জমি ব্যবসা, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্মল কৃষ্ণ সরকার ও কমল সরকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব অনলাইন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা