রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ থেকে মোঃ মাসুদ করিম : রূপগঞ্জ উপজেলায় কায়েতপাড়া ইউনিয়নে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ এবং অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য পরিশোধ ও জমির পরিবর্তে আনুপাতিক হারে বিকল্প জমি বা প্লট আদায়ের দাবিতে দুই ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের আধিবাসীদের নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার(২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার মাঝিনা আহমাদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ‘পৈতৃক ভিটা মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়াও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি গ্রামের শতাধিক ভুক্তভোগী আদিবাসী এবং স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত হয়ে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলসিঁড়ি প্রকল্পের কারণে স্থানীয় অনেক অধিবাসী তাঁদের পৈতৃক ভিটা-মাটি ও কৃষিজমি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বক্তারা স্পষ্টভাবে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন: ১. জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সীমানা (ডিমার্কেশন) অনতিবিলম্বে নির্ধারণ করতে হবে। ২. অধিগ্রহণকৃত সব জমির জন্য বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী উপযুক্ত ও ন্যায্য মূল্য প্রদান করতে হবে। ৩. যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের পুনর্বাসনের স্বার্থে আনুপাতিক হারে বিকল্প জমি বা প্লট বরাদ্দ দিতে হবে।
‘পৈতৃক ভিটা মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধ। অবিলম্বে যদি এসব যুক্তিসঙ্গত দাবি পূরণ করা না হয়, তবে ১৪টি গ্রামের অধিবাসীদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর সামাজিক ও আইনি কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উক্ত আলোচনা সভায় ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তব্য রাখেন ও সংহতি প্রকাশ করেন— ব্যাংকার আবু বক্কর সিদ্দিক, হোসেন ব্যাপারী, পেশকার শামসুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম রফিক, দলিল লেখক গুলজার হোসেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার, অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।
