শুক্রবার | অক্টোবর ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ দুই বছর ধরে জীবিকার সংকটে পর্যটনসংশ্লিষ্ট মানুষ, দ্রুত সিদ্ধান্ত চান ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথ চালুর দাবি :

দুই বছর ধরে জীবিকার সংকটে পর্যটনসংশ্লিষ্ট মানুষ, দ্রুত সিদ্ধান্ত চান ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা

এইচ এন আলম, কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, নৌযান শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে নৌপথে পর্যটক পরিবহন বন্ধ বা সীমিত থাকায় দ্বীপের পর্যটননির্ভর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। এতে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, নৌযান ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ।

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা এ দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে যান। পর্যটকদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, স্থানীয় পরিবহন এবং বিভিন্ন সেবাকে কেন্দ্র করে দ্বীপের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশের কর্মসংস্থান গড়ে উঠেছে। কিন্তু পর্যটক চলাচলে বিধিনিষেধ ও নৌযান পরিচালনা সীমিত থাকায় এসব মানুষের স্বাভাবিক আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়লে দ্বীপের ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্থানীয় দোকান, খাবারের হোটেল, আবাসনব্যবস্থা, নৌযান ও পর্যটকসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কাজের সুযোগ পান। পর্যটক কমে গেলে এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ও কমে যায়। দীর্ঘ সময় এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।

পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে চাপ
সেন্টমার্টিনের অর্থনীতি অনেকাংশেই পর্যটন কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। দ্বীপের বহু বাসিন্দা পর্যটন মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কেউ নৌযানে কাজ করেন, কেউ হোটেল-রেস্তোরাঁয়, আবার কেউ পর্যটকদের কাছে স্থানীয় পণ্য বিক্রি করেন। পর্যটক চলাচল কমে গেলে এসব পেশার মানুষের আয়ও কমে যায়।

এ ছাড়া টেকনাফের নৌযান পরিচালনা, পর্যটক পরিবহন এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গেও বহু মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা সীমিত থাকলে এর প্রভাব শুধু সেন্টমার্টিনে নয়, টেকনাফের সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও শ্রমবাজারেও পড়ে।
ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই বিকল্প পেশার সন্ধান করছেন। কেউ ব্যবসা সংকুচিত করতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ মৌসুমি কাজের ওপর নির্ভর করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নৌপথ চালুর বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটন চালুর দাবি
সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাল, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কারণে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের দাবি, পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবিকা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

তাঁদের মতে, পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন পর্যটন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত নিয়ম মেনে পর্যটক পরিবহন, জাহাজ চলাচল, আবাসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এতে দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও সচল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, অনুমোদিত নৌযান পরিচালনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা
টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত চান ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, পরিবেশগত শর্ত ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দ্বীপের প্রকৃতি সুরক্ষিত থাকে এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার পথও বন্ধ না হয়।

তাঁদের মতে, পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। এতে পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা কমবে এবং দ্বীপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সেন্টমার্টিনের পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা—দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথ চালুর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা