শনিবার | অক্টোবর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ নোয়াখালীতে চত্বরের নাম নিয়ে বিতর্ক, এক দিনে দুই বার পরিবর্তন

নোয়াখালীতে চত্বরের নাম নিয়ে বিতর্ক, এক দিনে দুই বার পরিবর্তন

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের একটি চত্বরের নাম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্থানটির নাম দুবার পরিবর্তন করা হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’ লেখা ব্যানার সরিয়ে আবারও ‘হাদি চত্বর’ ঘোষণা করেন জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা ও আজাদী মঞ্চের সদস্যরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেখানে টাঙানো ‘হাদি চত্বর’-এর ব্যানার সরিয়ে ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’ লেখা নতুন ব্যানার স্থাপন করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও নোয়াখালীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে যথাযথ সম্মান জানানো হয়নি বলে তাঁর মনে হয়েছে। সেই উপলব্ধি থেকেই তাঁর নামে চত্বরটির নামকরণের উদ্যোগ নেন তিনি।

তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান বলেন, বিএনপি সস্তা রাজনীতি করে না এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা এমন কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।

নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো জানান, জেলা বিএনপির সঙ্গে আলোচনা না করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ব্যানার স্থাপন করেছেন। তাঁরা এ উদ্যোগ সমর্থন করেন না। পরে জিয়াউর রহমানের ব্যানার সরিয়ে আবারও হাদি চত্বরের ব্যানার স্থাপনের খবর পান বলেও জানান তিনি। তবে ব্যানার সরানোর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, আজাদী মঞ্চের সাংগঠনিক সম্পাদক জোনায়েত হোসেন আপন জানান, তাঁরা জেলা বিএনপিকে ব্যানার সরানোর জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। শুক্রবার দুপুরে সেখানে গিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি দেখতে না পেয়ে তাঁরা আবারও হাদির ছবি স্থাপন করেন এবং স্থানটিকে ‘হাদি চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে জিয়াউর রহমানের ব্যানার সরিয়ে হাদির ব্যানার স্থাপনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় বছরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের এই চত্বরের নাম মোট চারবার পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০২০ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে সেখানে ‘বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বর’ স্থাপন করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এটি উদ্বোধন করেন নোয়াখালী-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী।

পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের ওই স্থানকে ‘ওসমান হাদি চত্বর’ ঘোষণা করেন জুলাই সর্বদলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা। সে সময় বিএনপি, জামায়াত, শিবির ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল বলে জানা যায়।

একই স্থানের নাম বারবার পরিবর্তন করায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকের মতে, বিদ্যমান স্থাপনার নাম বারবার পরিবর্তনের পরিবর্তে স্থানীয় ইতিহাস, জনমত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা