শনিবার | অক্টোবর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ বিশ্ব ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া মাত্র পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের পর বরখাস্ত

ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া মাত্র পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের পর বরখাস্ত

জনতা ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া মাত্র পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের পর শুক্রবার পদচ্যুত হয়েছেন। মঙ্গলবার তার একমাত্র প্রেস ব্রিফিংটি বিপর্যয়করভাবে শেষ হওয়ার পর থেকে আইনি যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক ও সংবাদমাধ্যমের অবিরাম সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন এই বিরল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদে এটিই স্মরণকালের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত মেয়াদ।

শুক্রবার বিকেলে জর্জিয়ায় একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি জাকারিয়াকে তার নতুন দায়িত্বটি ‘পুনর্বিবেচনা’ করার পরামর্শ দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি তোমার জায়গায় হলে পুনর্বিবেচনা করতাম। কেটি, তোমার কি এই চাপের দরকার আছে? আমার মনে হয় তোমার দরকার নেই।’

ঘটনার সঙ্গে পরিচিত তিনজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে নিশ্চিত করেছেন যে জাকারিয়াকে প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে জাকারিয়া হয়তো ‘কোনো না কোনোভাবে, তবে সম্ভবত আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভূমিকায়’ তার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চুং পরবর্তীতে জানান, জাকারিয়া ‘একটি নতুন ভূমিকায় রূপান্তরিত হবেন, যা পরে ঘোষণা করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত বুধবার চুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন যে ‘হোয়াইট হাউসের সর্বস্তরে সবাই কেটির কাজে গভীরভাবে মুগ্ধ’ এবং ‘এই দ্বিতীয় মেয়াদের শেষে তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা হিসেবে স্মরণ করা হবে।’

জাকারিয়া নিজে শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করা সম্মানের ছিল। তিনি একজন দয়ালু, চমৎকার, উদার, বিবেচক, উৎসাহী ও পরিশ্রমী মানুষ। আমি চাই আরও বেশি আমেরিকান তাকে মূল্যায়ন করুক। তিনি যেভাবে আমেরিকাকে মহান করেছেন এবং করছেন, তা আর কেউ করতে পারবে না।’

গত সপ্তাহের শুক্রবার ট্রাম্প ফক্স নিউজের তুলনামূলকভাবে অখ্যাত ও অবৈতনিক ভাষ্যকার জাকারিয়াকে হঠাৎ করে এই পদের প্রস্তাব দেন। হোয়াইট হাউসের বেশিরভাগ কর্মকর্তার কাছেই তিনি অপরিচিত ছিলেন। তবে প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহকারীদের একজন ন্যাটালি হার্পের সমর্থন তার পক্ষে কাজ করে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও জাকারিয়া তখনো ওয়াশিংটনে স্থানান্তরিত হননি।

মঙ্গলবার তার অভিষেক প্রেস ব্রিফিংটি শুরু থেকেই সমস্যায় ভরা ছিল। মূলত একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানো জাকারিয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্ব মাত্র সাড়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে শেষ করে দেন। এরপরই তার আইনি পরিচয় নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। ট্রাম্প নিজে জাকারিয়াকে ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও প্রকাশ পায় যে তিনি বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি।

হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদক তাকে বারবার জিজ্ঞেস করেন কোন রাজ্যে তিনি বার পরীক্ষা পাস করেছেন। জাকারিয়া দুবার জবাব দেন, ‘যখন আমি চীনে চলে যাই।’ পরে তিনি দাবি করেন যে তিনি প্রশ্নটি ভুল শুনেছিলেন—যদিও ট্রাম্প তখন তার থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে দাঁড়িয়ে প্রতিবেদকের প্রশ্নটি তাকে আবার শুনিয়েছিলেন।

পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজে শন হ্যানিটির সাক্ষাৎকারে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হ্যানিটি জাকারিয়ার আইনি যোগ্যতা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন করেন এবং অস্বাভাবিক সন্দেহের দৃষ্টিতে তার মুখোমুখি হন। শুক্রবার সকালে ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানেও পরিস্থিতি তার অনুকূলে ছিল না। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক লরেন্স জোনস সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি আপনি কি প্রেসিডেন্টকে জানাননি?’ জাকারিয়া জবাব দেন, ‘লরেন্স, ওই প্রশ্নগুলো আমাকে করা হয়নি।’

জাকারিয়ার বরখাস্তের ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে এক সপ্তাহব্যাপী অস্বাভাবিক অস্থিরতার পরিণতি। একই সপ্তাহে মঙ্গলবার জাকারিয়ার ব্রিফিং চলাকালেই গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে টেলিভিশনে ঘোষণার মাধ্যমে বরখাস্ত করা হয়। প্রেসিডেন্টকে ওভাল অফিসে তার দুই অনুগত সহকারী রিচার্ড গ্রেনেল ও আলিনা হাব্বা মিলডনের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব নিরসনে সময় দিতে হয়। ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন পাওলো জাম্পোল্লিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের কন্যা ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের বিদেশে অর্থ উপার্জন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অ্যান্থনি স্কারামুচি হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে নিয়োগের মাত্র ১০ দিনের মাথায় বরখাস্ত হয়েছিলেন, যা তখন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। জাকারিয়ার বরখাস্তের খবর প্রকাশের পর স্কারামুচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, ‘রেকর্ড ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। তবে অন্যের কষ্টে আমি কোনো আনন্দ পাই না।’

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা