সোমবার | অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ সাংবাদিকের অবস্থান ঢাকায়, চাঁদাবাজী মামলা আত্রাই! স্বাক্ষী বিদেশে, তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে

সাংবাদিকের অবস্থান ঢাকায়, চাঁদাবাজী মামলা আত্রাই! স্বাক্ষী বিদেশে, তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে

স্টাফ রিপোর্টার: ১৮ অক্টোবর ২০২৬: গত ২৬ এপ্রিল দৈনিক ইনকিলাবের নওগাঁর আত্রাই প্রতিনিধি সিফাত মাহমুদ ফাহিম ছিলেন ঢাকার সাভারে তার ভাড়া বাসায়। কিন্তু ওইদিনই সাংবাদিক ফাহিমের বিরুদ্ধে স্ব-শরীরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ২০ লক্ষ টাকা মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। ছাত্রজীবনে সাংবাদিক ফাহিম আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। মামলার বাদী মো. নাজিম উদ্দিন মণ্ডল নওগাঁর আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং একই উপজেলার ২ নম্বর ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান। অন্যদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আত্রাই থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর মো. সেলিমুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম ও মিথ্যা তথ্য আদালতে পাঠানোর অভিযোগ এসেছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১২ টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে (ক্রাব) এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ফাহিমের বাবা ওসমান আলী প্রামানিক, মা শেফালী বেগম, ভাই ফিরোজ প্রামানিক এবং খালাতো ভাই নাজমুল ইসলাম।

পরিবারের অভিযোগ, আত্রাই উপজেলার ২ নম্বর ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন মণ্ডলের দায়ের করা ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুতর অসংগতি রয়েছে। তদন্ত শেষে পুলিশ ফাহিমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৫ ও ৫০০ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ১৪ অক্টোবর নওগাঁর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক মো. নজরুল ইসলাম তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা ফাহিমের অবস্থান ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে দেখালেও প্রকৃতপক্ষে ফাহিমের অবস্থান ছিলো ঢাকায়। গত ৩ জুন আত্রাইয়ের ৮ নম্বর আমলকী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন নাজিম উদ্দিন মণ্ডল।

তদন্ত কর্মকর্তার এমন অসত্য প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে এলাকার সাংবাদিক ও সচেতন মহলের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তার পরিবার জানায়, চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন মণ্ডল গত ১ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি মালামাল অবৈধভাবে সরিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় ‘আত্রাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ সরানোর অভিযোগ, ডিসিকে ইউএনওর চিঠি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর গত ১২ সেপ্টেম্বর ধর্ষণ মামলায় ওই ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ দৈনিক ইনকিলাবে ‘ধর্ষণ মামলায় আ.লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়াও এর আগে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ফাহিমসহ গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। তারই প্রেক্ষিতে সাংবাদিক ফাহিমের উপরে আক্রোশের জায়গা থেকে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

এদিকে তদন্ত কর্মকর্তার তার তদন্ত প্রতিবেদনে গ্রাম পুলিশ মোঃ আনোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে তার সঙ্গে কেউ তদন্ত করতে আসেননি বলে তিনি দাবি করেছেন। ওই বক্তব্যের একটি রেকর্ডিং পরিবারের কাছে রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই সাক্ষী মোঃ সবুজ হোসেন ও মো. শহিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে হলফনামার মাধ্যমে তারা এবিষয়ে কিছুই জানেননা বলে তাঁদের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। আন্য আরও একজন স্বাক্ষী মোঃ আল আমিন খাঁ তিনি দেশের বাইরে থাকেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা কোন কোন প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, কীভাবে সাক্ষীদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছেন, ঘটনার সময় ও স্থান কীভাবে যাচাই করেছেন এবং অভিযুক্তের পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনায় নিয়েছেন কি না—এসব বিষয় তদন্তের মূল নথি ও কেস ডায়েরি পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করতে হবে।

পরিবারের দাবি, মামলাটির নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বাদীর বিরুদ্ধে জেনেশুনে মিথ্যা অভিযোগ করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফাহিমের ন্যায়বিচার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। চুরির ঘটনা ও ধর্ষনের ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করার পর চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাংবাদিক ফাহিমের বিরোধ তীব্র হয়। তাঁদের প্রশ্ন, ইউনিয়ন পরিষদের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হওয়ায় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

সাংবাদিক ফাহিমের পরিবারের অভিযোগ, অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করায় তাঁকে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অসত্য তথ্য দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠিয়েছে। তাঁর পরিবার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে অসংগতি ও কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তকারী কর্মকর্তার ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে তদন্ত কর্মকর্তা বা অন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাদীর জেনেশুনে মিথ্যা অভিযোগ করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ফাহিমের ন্যায়বিচার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এছাড়াও মামলাটির পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বি.দ্র: নিম্নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম, পদবী ও মোবাইল নাম্বার।
১। মো. নাজিম উদ্দিন মণ্ডল, চেয়ারম্যান ও মামলার বাদী-০১৭৫৭৮২৯৩৭৩
২। মো. সেলিমুজ্জামান, সাব-ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা-০১৭৫০৬৩৬৬২৩
৩। মোঃ আনোয়ার হোসেন, গ্রাম্য পুলিশ ও স্বাক্ষীদাতা-০১৭৫৫১৮০৮৪৮
৪। মোঃ সবুজ হোসেন, মামলার স্বাক্ষী-০১৭৬১১৮৯২২০
৫। মো. শহিদুল ইসলাম, মামলার স্বাক্ষী-০১৩৩১৫১৬৩৪৭
৬।ফিরোজ প্রামানিক, সাংবাদিক ফাহিমের ভাই-০১৭৭৫৩০৩৪২৩

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা