জনতা ডেস্ক : পূজার ছুটিতে পাহাড়, ঝরনা, লেক আর সবুজ প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, মেঘে ঢাকা সবুজ পাহাড়, রহস্যময় সুড়ঙ্গ, ঝুলন্ত সেতু আর শান্ত জলরাশির মায়াবী পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দুর্গোৎসবের আনন্দ ও পাহাড়ি সংস্কৃতির বৈচিত্র্য দেখার সুযোগও রয়েছে এখানে।
খাগড়াছড়ির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র, তেরাং তৈ কালাই (রিছাং ঝর্ণা), জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক ও ভাইবোনছড়ার মায়াবিনী লেক উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি খাগড়াপুর পূজামণ্ডপে ত্রিপুরা রমণীর ঐতিহ্যবাহী সাজে প্রতিমা এবং কাঁচা বাঁশের নকশায় সাজানো প্যান্ডেল দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে।
আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র
খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পশ্চিমে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাশে অবস্থিত আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ও দূরের পাহাড়ের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ রহস্যময় প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ।
সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে হেঁটে অন্য প্রান্তে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা ভ্রমণে যোগ করে ভিন্নমাত্রা। সুড়ঙ্গের ভেতরে অন্ধকার গা ছমছম অনুভূতি সৃষ্টি হয়। সুরঙ্গে প্রবেশের সময় আলো সঙ্গে রাখা এবং সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা জরুরি।
দৃষ্টিনন্দন পাহাড়চূড়া তারেং
পাহাড়ি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ঘুরে দেখতে পারেন সবুজ পাহাড়চূড়া তারেং। এখান থেকে খাগড়াছড়ি শহর পরিপূর্ণ দেখা যায়। এ ছাড়া এখানকার সবুজ বনভূমি এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য ভ্রমণপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে। ছবি তোলা, প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এ স্থান হতে পারে ভালো পছন্দ।
তেরাং তৈ কালাই (রিছাং ঝর্ণা)
পাহাড়ি ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আগ্রহী পর্যটকেরা ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন তেরাং তৈ কালাই ঝর্ণা। পাহাড়ি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক জলধারা ভ্রমণকে করে তুলতে পারে আরও উপভোগ্য।
মাটিরাঙ্গা উপজেলার হৃদয় মেম্বার পাড়া এলাকায় অবস্থিত এই ঝর্ণা পাহাড়ের সবুজ বনভূমি, পাথুরে ঢাল ও স্বচ্ছ জলধারার জন্য পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক
খাগড়াছড়ি শহরের কাছেই অবস্থিত পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক। সবুজ বাগান, পাহাড়ি পরিবেশ ও ঝুলন্ত সেতু এই পার্কের অন্যতম আকর্ষণ। প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো, ছবি তোলা কিংবা পরিবার-পরিজন নিয়ে অবসর যাপনের জন্য জায়গাটি বেশ উপযোগী।
পার্কটিতে নতুন করে জীপলাইন এবং জায়ান্ট সুইং দুইটি রাইড স্থাপন করা হয়েছে। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে রাইডগুলো।
ভাইবোনছড়ার মায়াবিনী লেক
পাহাড়ের সবুজে ঘেরা মায়াবিনী লেক খাগড়াছড়ির আরেকটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান। ভাইবোনছড়ার কংচাইরী পাড়া এলাকায় অবস্থিত লেকটির শান্ত জলরাশি ও চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
লেকের পাশে সময় কাটানো, ছবি তোলা এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য জায়গাটি উপযোগী। লেকে রয়েছে প্যাডেল বোটে ঘোরার সুযোগ যা ভ্রমণে যোগ করে বাড়তি আনন্দ।
খাগড়াপুর পূজামণ্ডপে ত্রিপুরা রমণীর সাজে প্রতিমা
প্রকৃতির পাশাপাশি পূজার ছুটিতে খাগড়াছড়ির দুর্গোৎসবও হতে পারে ভ্রমণের বিশেষ আকর্ষণ। খাগড়াপুর পূজামণ্ডপে ত্রিপুরা রমণীর ঐতিহ্যবাহী সাজের আদলে প্রতিমা এবং কাঁচা বাঁশের নকশায় প্যান্ডেল সাজানোর বিষয়টি দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে দুর্গোৎসবের এই আয়োজন ভ্রমণকারীদের জন্য হতে পারে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি প্যান্ডেলের নকশা ও সাজসজ্জাও উপভোগ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।
যেভাবে যাবেন খাগড়াছড়ি
ঢাকা থেকে: রাজধানীর বিভিন্ন বাস কাউন্টার থেকে খাগড়াছড়িগামী বাসে যাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম থেকে: নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা না থাকলে চট্টগ্রাম শহরের বায়েজিদ এবং অক্সিজেন থেকে খাগড়াছড়িগামী বাসে যেতে হবে।
খাগড়াছড়ি শহর থেকে দর্শনীয় স্থানগুলোতে: আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে সিএনজি, স্থানীয় পরিবহন বা ভাড়ার গাড়িতে যাওয়া যায়। জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে শহর থেকে অটোরিকশা বা স্থানীয় পরিবহনে পৌঁছানো সম্ভব।
তেরাং তৈকালাই বা রিছাং ঝর্ণা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা পাহাড়ের হৃদয় মেম্বার পাড়া এলাকায় অবস্থিত। সদর থেকে ঝর্ণাটির দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। মেইন সড়ক পর্যন্ত লোকাল গাড়ি অথবা রিজার্ভ গাড়িতে গিয়ে গেইট থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে যেতে হবে।
এ ছাড়া মায়াবিনী লেকের জন্য ভাইবোনছড়া হয়ে কংচাইরী পাড়া এলাকার দিকে যেতে হবে। খাগড়াছড়ি সদর থেকে পানছড়ি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
দুই দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা
প্রথম দিন সকালে আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র ও রহস্যময় সুড়ঙ্গ ঘুরে দেখা যেতে পারে। এরপর সময় ও যাতায়াতের সুবিধা অনুযায়ী তারেং এবং জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক ঘুরে দেখা যেতে পারে।
দ্বিতীয় দিন সকালে তেরাং তৈ কালাই ঝর্ণা ঘুরে দেখা যায়। বিকেলে ভাইবোনছড়ার মায়াবিনী লেক ভ্রমণ করা যেতে পারে। সন্ধ্যায় খাগড়াপুর পূজামণ্ডপে প্রতিমা দর্শন ও প্যান্ডেলের সাজসজ্জা উপভোগ করা যেতে পারে।
পাহাড়, লেক, ঝরনা ও দুর্গোৎসব সব মিলিয়ে পূজার ছুটিতে খাগড়াছড়ি হতে পারে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এক আকর্ষণীয় গন্তব্য।
