টাঙ্গাইল থেকে মনোয়ার হোসেন সোহেলঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ২১ ( অক্টোবর ) বুধবার বিকেলে কালিহাতীর রতনগঞ্জ এলাকায় বংশাই নদী থেকে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকার ছাদে আনন্দ করতে করতে বাড়ি ফিরতে ছিলেন। এসময় পথে দুলশিমুল এলাকায় হঠাৎ পা পিছলে নদীতে পড়ে যান বিজয়।
এরপর ৪১ ঘন্টা পর বিজয় চন্দ্র কোচের (২০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার ২৩ তারিখ সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে উপজেলার দারিয়াপুর নামাপাড়া এলাকায় নদে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয় লোকজন মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
নিহত বিজয় চন্দ্র সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ধোপারচালা গ্রামের খনিন্দ্র চন্দ্র কোচের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান , গত বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে পাশের কালিহাতী উপজেলার রতনগঞ্জ এলাকায় বংশাই নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে বিজয়সহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বাড়ি ফিরছিলেন। নৌকাটি বংশাই নদীর ডোলশিমুল এলাকায় পৌঁছালে বিজয় হঠাৎ নদীতে পড়ে যান। তিনি সাঁতরে তীরে ওঠার চেষ্টা করেন। তবে নদীর পাড়ের ঝোপঝাড়ের কাছে গিয়ে পানিতে ডুবে যান। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
ঘটনার পর বুধবার রাতেই ফায়ার সার্ভিস, থানা-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল থেকে আসা ৩ জন ডুবুরিসহ ফায়ার সার্ভিসের ৭ সদস্যের একটি দল বংশাই নদীতে উদ্ধার অভিযান চালায়। দিনভর নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও বিজয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি।স্থানীয় বাসিন্দা জুবায়ের শিকদার এসব কথা বলেন ।
সখীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দলনেতা তৌহিদুর রহমান বলেন, আমাদের ৭ সদস্যের দল বৃহস্পতিবার দিনভর উদ্ধারকাজ চালায়। বংশাই নদীর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও ওই তরুণের সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানতে পারলাম, ভাটিতে মরদেহ পাওয়া গেছে। স্রোত ও কচুরিপানা থাকায় আমাদের উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছিল। আমাদেরও ধারণা ছিল, মরদেহ অনেক ভাটিতে চলে গেছে।’
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধারের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
