রবিবার | নভেম্বর ১, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশঢাকা অগ্নিকাণ্ডের পর কি শুধুই তদন্ত কমিটি?

কেরানীগঞ্জে আবাসিক ভবনে অবৈধ দাহ্য পদার্থের কারখানা:

অগ্নিকাণ্ডের পর কি শুধুই তদন্ত কমিটি?

মোঃমাহাবুবুর রহমান, ঢাকা : রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও থামছে না আবাসিক ভবনে অবৈধ রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের কারখানা স্থাপন। সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র অতিরিক্ত অর্থ ও ভাড়ার লোভে বহু বাড়ি মালিক আবাসিক ভবনে এসব ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা বসাতে ভাড়া দিচ্ছেন। ফলে সাধারণ বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত বাস করছেন চরম মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে।

সর্বশেষ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় কোনো দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা ও আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে প্রশাসনের ভূমিকা।

বাড়িমালিকদের গাফিলতি ও জীবনের অপমূল্যায়ন

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক বাড়িমালিক কেবল ভাড়ার টাকা পেলেই যাকে-তাকে ফ্ল্যাট বা নিচতলা কারখানা হিসেবে ব্যবহার করতে দিচ্ছেন। আবাসিক এলাকায় দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা বা কারখানা পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এক ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ মারা যাচ্ছে। আর হতাহত পরিবারগুলোকে নামমাত্র ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান বা ক্ষতিপূরণ দিয়েই লাশগুলোর দাম মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মানুষের জীবনের দাম কি এতোটাই কম?”

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিনিয়ত বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে যাওয়ার পর কিছুদিন আলোচনা ও তদন্ত কমিটি গঠনের তোড়জোর দেখা যায়। তবে দিনশেষে এসব তদন্তের সুপারিশ বা সুনির্দিষ্ট কোনো কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হতে দেখা যায় না। কেরানীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকাগুলোতে এমন বহু অবৈধ কারখানা এখনো বহাল তবিয়তে চালু রয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি, আর কোনো অঘটন ঘটার আগেই প্রশাসনকে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু লোকদেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় না সেরে অবৈধ কারখানাসমূহ উচ্ছেদ এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারী বাড়িমালিক ও কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা