সোমবার | নভেম্বর ২, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশঢাকা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে: নবীন আনসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মহাপরিচালক

ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে: নবীন আনসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মহাপরিচালক

স্টাফ রিপোর্টার : ৪৫তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডারের ১৯ জন নবীন কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান শেষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে উপস্থিত হন। এ উপলক্ষে সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত স্বাগত ও পরিচিতিমূলক সভায় মহাপরিচালক নবীন কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব, নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও বাহিনীর ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

এসময় মহাপরিচালক নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের বৃহত্তম জনসম্পৃক্ত শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী। প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের এই বিশাল বাহিনী ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত। বাহিনীর প্রতিটি স্তরের সদস্যের দায়িত্ব ও ভূমিকা স্বতন্ত্র হলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণে তাদের সম্মিলিত অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশাল সাংগঠনিক শক্তিকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তির চিন্তাভাবনা, প্রত্যাশা ও উপলব্ধি স্বতন্ত্র। একইভাবে প্রত্যেকের কর্মজীবনের লক্ষ্য ও অভিজ্ঞতাও ভিন্ন হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত প্রত্যাশা ও উপলব্ধিকে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য, আদর্শ ও দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সাংগঠনিক উৎকর্ষ অর্জন এবং জাতীয় স্বার্থে অবদান রাখার মানসিকতা ধারণ করতে হবে।

মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামাজিক নিরাপত্তা, জনকল্যাণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা, স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাহিনীর বিশাল সদস্যভিত্তিকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করে এসব কার্যক্রমে আরও কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।

তিনি নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সুসংগঠিত, দক্ষ ও জনবান্ধব বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, তাদের প্রত্যাশা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুধাবন এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাহিনীর সাংগঠনিক শক্তিকে আরও গতিশীল করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় দিতে হবে।

সভায় নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাদের বাহিনীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ধারণ করে নিজেদের জ্ঞান, মেধা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অবদান আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা