চাঁদপুর থেকে এ কে আজাদ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে শপথ না নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে। জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এতে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমির ছাত্রী ক্যাম্পাসে জেলা আমিরের শপথ গ্রহণ ও জেলা মজলিশে শুরার সদস্য নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ টি এম মাসুম বলেন, শপথ অনুষ্ঠান একটি আবেগঘন ও গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। মনের আবেগ ও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে শপথ গ্রহণ করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নেও আন্তরিক হতে হবে। বর্তমান সরকারের সাত মাসের কর্মকাণ্ডে জনগণের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সংস্কারের পক্ষে আয়োজিত কর্মশালাগুলোতে জনগণের মধ্যে আশাবাদ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর দাবি, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সরকার সেই সনদ বাস্তবায়নের শপথ নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংবিধানে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংবিধান বহাল রেখে বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই। সরকার চাঁদাবাজিকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে এবং আগের সরকারের সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ-তিন গুণ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। সরকারের কয়েক মাসের শাসনামলে দেশে খুন, রাহাজানি ও অস্থিরতা বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিচার বিভাগকে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিচার বিভাগকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ইসলামের ওপর আঘাত আনা হচ্ছে এবং শরিয়াহ আইন মানতে অনীহা দেখানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়া ইতোমধ্যে চার শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও কুমিল্লা অঞ্চল টিমের সদস্য আব্দুস সাত্তার।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া সম্মেলন পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দারসুল কুরআন পেশ করেন হাজীগঞ্জ কামিল মাদরাসার প্রধান মুহাদ্দিস আবু নসর আশ্রাফি।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, সহকারী সেক্রেটারি ডা. আব্দুল মবিন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মাওলানা আবুল হোসেন ও হারুনুর রশিদসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
