শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ উখিয়ার আকাশে অদৃশ্য আতঙ্ক: এক সপ্তাহে চার শিশু-কিশোর নিখোঁজ, ঘুম হারাম অভিভাবকদের

উখিয়ার আকাশে অদৃশ্য আতঙ্ক: এক সপ্তাহে চার শিশু-কিশোর নিখোঁজ, ঘুম হারাম অভিভাবকদের

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার থেকে : উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার নাম এখন কক্সবাজারের উখিয়া। গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চার শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো জনপদে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক। সন্তান ঘরের বাইরে গেলেই বুক কেঁপে উঠছে অভিভাবকদের। প্রতিটি ফোনকল, প্রতিটি অচেনা খবর যেন নতুন করে বাড়িয়ে দিচ্ছে উৎকণ্ঠা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে রত্নাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া মাঝেরপাড়া এলাকার শিশু নুসাইবা, ভালুকিয়া জাফর পল্লানপাড়া এলাকার মাসুদ মোহাম্মদ আরবীত, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ঘাঁটিরপাড়া এলাকার হৃদয় হাসান (১৫) এবং রেদোয়ান নামের আরও এক কিশোর।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে শিশু নুসাইবার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। পরিবারের অভিযোগ, নুসাইবা হারিয়ে যাওয়ার পর তাদের কাছে মুক্তিপণ দাবির ফোন আসে। এতে অপহরণের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। তবে কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

এরই মধ্যে শনিবার সকাল থেকে নিখোঁজ রয়েছে ঘাঁটিরপাড়া এলাকার কিশোর হৃদয় হাসান। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও তার কোনো হদিস পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচারণা।

প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়ায় এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এগুলো কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র? এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, প্রতিটি ঘটনাকে আলাদা করে দেখলে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন কঠিন হতে পারে। তাই সব নিখোঁজের ঘটনা একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বাড়ি ফেরার অনিশ্চয়তা

উখিয়ায় একের পর এক শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। আগে যেখানে সন্তানদের স্বাভাবিকভাবে বিদ্যালয়, কোচিং কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যেতে দেওয়া হতো, এখন সেখানে প্রতিটি মুহূর্তে কাজ করছে অজানা শঙ্কা।

সকালে স্কুলে যাওয়ার পর সন্তান নিরাপদে বাড়ি ফিরবে কি না—এ প্রশ্ন এখন অনেক পরিবারের নিত্যদিনের উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির পর নির্ধারিত সময়ে সন্তান বাড়ি না ফিরলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা। অনেকেই বারবার ফোন করে সন্তানের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রশাসনের আশ্বাস

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে এবং পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। বিভিন্ন সূত্র ধরে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এছাড়া নিখোঁজ নুসাইবার কাছ থেকে যে নাম্বার থেকে ফোন কল এসেছে তার সিডিআর বের করেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় ঘটনার পুরো তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

অপেক্ষা শুধু ফিরে আসার

নিখোঁজ শিশু-কিশোরদের পরিবারগুলোর দিন কাটছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। তাদের একটাই আকুতি—প্রিয় সন্তান যেন নিরাপদে ফিরে আসে। অন্যদিকে এলাকাবাসীও দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদার ও দৃশ্যমান অগ্রগতির দাবি জানিয়েছেন।

উখিয়ার মানুষ এখন উত্তর খুঁজছে একটি প্রশ্নের—এক সপ্তাহে চার শিশু-কিশোর কোথায় হারিয়ে গেল? আর সেই উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আতঙ্কের এই ছায়া কাটছে না জনপদ থেকে।

 

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা