বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ বই পড়ি, মন গড়ি’: শ্রীমঙ্গলে ৩৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজার শিক্ষার্থী মেতেছে তিন ধাপের বইপড়া উৎসবে

বই পড়ি, মন গড়ি’: শ্রীমঙ্গলে ৩৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজার শিক্ষার্থী মেতেছে তিন ধাপের বইপড়া উৎসবে

শাহাব উদ্দিন আহমদ, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের এই সময়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও কাব্য পাঠে আগ্রহী করে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন। ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ শ্লোগানে আয়োজিত ‘শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব-২০২৬’-এর মাধ্যমে উপজেলার মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব স্তরের শিক্ষার্থীদের সামনে খুলে দেওয়া হচ্ছে জ্ঞানের নতুন দিগন্ত।

গত ২১ জুলাই উদ্বোধন হওয়া দুই মাসব্যাপী এ উৎসবের প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্ব’-এ শিক্ষার্থীদের বইপাঠে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন সরাসরি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজনগর জে.এস.এস.আর. মাদ্রাসা, শ্রীমঙ্গল আনোয়ারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা, সেন্ট মার্থাস হাই স্কুল এবং ভূনবীর দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজে পৃথকভাবে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য ও জ্ঞানভিত্তিক বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “বইয়ের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বইপড়ার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করাই তাঁদের লক্ষ্য। আগামী প্রজন্ম বই পড়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করবে, বিশ্বকে জানবে এবং আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের সমন্বয়ক ও শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল।
উৎসবের আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্ব’-এ শ্রেণিভিত্তিক নির্ধারিত ১৪টি বই বর্তমানে উপজেলার ৩৮টি মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী একযোগে পড়ছে। আগামী ১৭ আগস্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এসব বইয়ের ওপর শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ধাপ ‘ফুল পর্ব’-এ অংশ নেবে। সেখানে নতুন বই পড়ে আবারও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে তারা। এরপর প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা তিনজন করে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা উপজেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত ‘ফল পর্ব’-এ অংশ নেবে। চূড়ান্ত পর্বেও নতুন বইয়ের ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে শ্রেণিভিত্তিক সেরা ১০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। অর্থাৎ চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছানো প্রত্যেক শিক্ষার্থী তিনটি পৃথক ধাপে অন্তত তিনটি ভিন্ন বই পড়ার সুযোগ পাবে।
এবারের উৎসবে যুক্ত হয়েছে একটি উন্মুক্ত বিভাগও। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরের যেকোনো বয়সের বইপ্রেমী নিবন্ধনের মাধ্যমে উৎসবে অংশ নিতে পারবেন। শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে সমন্বয় সহযোগী হিসেবে রয়েছে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে উত্তরণ।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পাঠ্যবইয়ের বাইরে আনন্দের জন্য বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আয়োজিত এই উৎসবকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল আসক্তির এই সময়ে এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি, চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বইপাঠের অভ্যাস গড়ে তুলে জ্ঞানচর্চার নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় শ্রীমঙ্গলের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতোমধ্যেই একটি ব্যতিক্রমী ও প্রশংসিত আয়োজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
ছবির ক্যাপশন: শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব-২০২৬ উপলক্ষে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা