সাভার থেকে ফাহাদ-ই-আজমঃ সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার ইউনিয়নকে সাভার থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেরানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে নেতৃত্ব দেন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাজী জামাল উদ্দিন সরকার।
বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় ৪৫ মিনিট ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের সাময়িক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি সুবিধা ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন ফরমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। পরে তারা জানতে পারেন, ওই স্বাক্ষর তিনটি ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বক্তারা বলেন, তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার দীর্ঘদিন ধরে সাভার উপজেলার অংশ। এলাকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে প্রশাসনিক সীমানা পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী জামাল উদ্দিন সরকার বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে তার প্রতিবাদ করবে। প্রয়োজন হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ আক্তার বলেন, সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায় অনেকেই ফরমে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের মতামত ছাড়া কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়।
আরেক বাসিন্দা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, জন্ম থেকে তারা সাভার উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমির কাগজপত্রসহ সব সরকারি নথি সাভারের অধীনেই রয়েছে। তাই প্রশাসনিক সীমানা পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগের আগে স্থানীয় জনগণের মতামত নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশ থেকে বক্তারা জানান, দাবি আদায় না হলে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং ধারাবাহিক আন্দোলনের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ সময় আব্দুর রহমান, অ্যাডভোকেট দীন ইসলাম, নয়ন সরকার, যুবদল নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার (শাওন সরকার), আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
