শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ৮৩০ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্যসহ অস্ত্র-বিস্ফোরক জব্দ

সোয়া সাত মাসে সরাইল রিজিয়নে বিজিবির অভিযান

৮৩০ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্যসহ অস্ত্র-বিস্ফোরক জব্দ

শাহাব উদ্দিন আহমদ, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সরাইল রিজিয়ন সদর দপ্তরের অধীন সিলেট, শ্রীমঙ্গল, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সেক্টরে পরিচালিত অভিযানে চলতি বছর ৮৩০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক দ্রব্য।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ চারটি সেক্টরের অধীন ১৩টি ব্যাটালিয়নের সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। রিজিয়নের আওতাধীন ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্তে ২১১টি সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) মাধ্যমে নিয়মিত টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে বলে বিজিবি জানায়।

এই সময়ে অভিযানে চারটি পিস্তল, ছয়টি এয়ারগান, পাঁচটি পাইপগান ও একটি ওয়ান শ্যুটারগান উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮ দশমিক ৩৩ কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার।

চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায়ও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়। সিলেট অঞ্চলের কালাসাদেক, গুচ্ছগ্রাম, ধলাই ব্রিজ, পিয়াইন নদী, বাল্লাঘাট ও জাফলং ব্রিজ এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি। এসব অভিযানে ২ হাজার ১২১ ঘনফুট বালু ও ৭ হাজার ৪৬৫ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য পাচার রোধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষায় বিজিবি অঙ্গীকারবদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মৌলভীবাজার জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা