এস,এম সিপার, পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুরে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করে
অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করে থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে উপজেলার চৌঠাইমহল বাসস্ট্যান্ডে ওই ঘটনা ঘটে।
স্হানীয় ও থানা সূএে জানা গেছে, পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া
দুই কিশোরীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার মেহজাবিন আক্তার ঋতুর সঙ্গে।
এবং তাদের মাজে গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
বন্ধুত্বের টানে দাউদপুর গ্রামের দুই কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঋতু নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে
মঙ্গলবার (৯জুন) সকালে
পিরোজপুরে আসেন বলে জানা গেছে। তাদের (তিন কিশোরীর) পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নাজিরপুরের চৌঠাইমহল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একত্রিত হয় তারা।
বাস স্ট্যানে তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্হানীয়রা থানায় অবগত করেন।
স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে নাজিরপুর থানা পুলিশের টিম বাসস্ট্যান থেকে তিন কিশোরীকে তাদের হেফাজতে নেয়।
এ ব্যাপারে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, সন্দেহজনক গতিবিধির কারনে তিন কিশোরীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তাদের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত প্রক্রিয়া
অবলম্বন করে
অভিভাবকদের কাছে
হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে
এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কী কারনে
একজেলার কিশোরী অন্য জেলায় এসে সমবয়সী দুই কিশোরীকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল।
কেউ কেউ ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমান বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের মতে, কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে পারিবারিক নজরদারি
বাড়ানো উচিত। এবং এ ঘটনার প্রকৃত কারন উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা জরুরি। তারা বলছেন, বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হলে ঘটনার অন্তর্নিহিত কারন এবং এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট হবে।
