বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ পিরোজপুরে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে স্বামীর আত্মহত্যা

পিরোজপুরে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে স্বামীর আত্মহত্যা

এস,এম সিপার,পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় দাম্পত্য কলহ ও স্ত্রীর পরকীয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবক ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

নিহত স্বজল কুমার দেউরী ( ৪০) পিরোজপুর
জেলার নেছারাবাদ ( স্বরুপকাঠী) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিঠানিয়া গ্রামের
৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্বপন কুমার দেউরীর সন্তান। নিহত স্বজল দেউরী দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কাটিং মিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ঢাকার ভাড়া বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন স্বজল। এবং ঘটনার সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদারের সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন।

নিহত স্বজলের আপন ছোট ভাই তুহিন দেউরী জানান, প্রায় ১০ বছর পূর্বে পার্শবর্তী নাজিরপুর উপজেলার রঞ্জিতা রানী হালদারের সঙ্গে আমার ভাইয়ের বিয়ে হয়। তাদের তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। বৌদির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী শোভন বেপারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে।
এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও তাদের মাজে দাম্পত্য কলহ অব্যাহত ছিল।

আত্মহত্যা করার পূর্বে আমার ভাই সজল মৃত্যুর কথা বললে ভিডিও কলে থাকা স্ত্রী তাকে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে। আমার পরিবারের সদস্যরা এসব কথা শুনেছেন বলেও দাবি করেন নিহত স্বজল দৈউরীর ভাই তুহিন
দৈউরী।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোজ ঢালী বলেন, নিহত স্বজলের স্ত্রীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী শোভন বেপারীর
সাথে সম্পর্ক নিয়ে গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আলাপ আলোচনা চলছিল। এবং বিষয়টি নিয়ে স্বামী স্বজল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে স্থানীয়দের ধারনা। তিনি আরো জানান, আত্মহত্যার পর থেকেই অভিযুক্ত শোভন বেপারী ও রঞ্জিতা রানী হালদার বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত শোভন বেপারী জানান,
আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে
সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রঞ্জিতা রানীর সঙ্গে আমার কোনো অনৈতিক সম্পর্ক ছিলনা এবং নেই। আমি তাকে সবসময় ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করতাম। আত্মগোপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

নিহত স্বজলের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদারের
সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টায় তার ব্যবহারিত মোবাইল ফোন নাম্বারে বার বার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এবং তিনি বাড়িতে না থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উল্লেখ্য, আত্মহত্যার পেছনে দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো জড়িত আছে বলে স্বজন ও স্থানীয়দের আলাপ – আলোচনায় উঠে আসায় ঘটনাটি উপজেলা জুড়ে টক অফ দা টাউনে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।

 

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা