শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ ভারত ডিব্রুগড়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহলের অসম মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন

ডিব্রুগড়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহলের অসম মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন

প্ৰতিনিধি ডিব্রুগড় : রাজ্যের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ডিব্রুগড়স্থিত অসম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (এএমসিএইচ) পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহল। রাজ্যের প্রাচীনতম এই চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ, অবকাঠামো এবং চিকিৎসা পরিষেবার খোঁজখবর নেন তিনি। হাসপাতালে পৌঁছে মন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে হাসপাতালের পরিচালনা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সিংহল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।মন্ত্রী এএমসিএইচ-এর চিকিৎসক ও কর্মীদের সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শুধু রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানই করছে না, চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও একটি উৎকৃষ্ট পরিবেশ গড়ে তুলেছে। আগামী দিনে কীভাবে এই প্রতিষ্ঠানকে ভারতের শীর্ষ ৫০টি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এছাড়াও, বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দেওয়া স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগব্যাধি নিয়ে এ এম সি এইচ-কে বিশেষ গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে রোগীর অতিরিক্ত ভিড় প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিকেন্দ্রীকরণের একটি সুস্পষ্ট নীতি রয়েছে। তিনি বলেন, ডিব্রুগড় থেকে যোরহাট এবং অন্যদিকে বিশ্বনাথ, ধেমাজি, লখিমপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার জটিল ও সংকটাপন্ন রোগীদের প্রধান ভরসাস্থল এএমসিএইচ। তাই ভবিষ্যতে এই মেডিকেল কলেজ মূলত জটিল রোগীদের চিকিৎসার ওপরই অধিক গুরুত্ব দেবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেসব সাধারণ রোগের চিকিৎসা জেলা হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সম্ভব, সেসব রোগীর মেডিকেল কলেজে আসার প্রয়োজন নেই। সরকার গ্রামাঞ্চলের এসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা করেছে। তিনি সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত হাসপাতালে অযথা অর্থ ব্যয় না করে সরকারি মেডিকেল কলেজের উন্নতমানের চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণের আহ্বান জানান। রাজ্যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী সিংহল স্পষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মূলত দুই ধরনের কর্মীর প্রয়োজন হয়—সহায়ক স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসক। বর্তমানে অসমে এমবিবিএস চিকিৎসকের কোনো অভাব নেই। প্রতি বছর প্রায় ১,০০০ জন এমবিবিএস এবং প্রায় ৬০০ জন স্নাতকোত্তর চিকিৎসক (মোট ৮০৩টি আসনের বিপরীতে) শিক্ষা সম্পন্ন করে বেরিয়ে আসছেন এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাধ্যতামূলক পরিষেবা প্রদান করছেন।তবে একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে চিকিৎসক মাত্র দুই বছরেই তৈরি হয়ে যান। কিন্তু বর্তমানে এমবিবিএস কেবল একটি প্রাথমিক ডিগ্রি। একটি বিভাগ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে সক্ষম বা বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত একজন সুপার-স্পেশালিটি চিকিৎসক তৈরি হতে ১২ থেকে ১৪ বছর সময় লাগে।সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার অবকাঠামো একদিনে গড়ে ওঠে না। এএমসিএইচ আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে ৮০ বছর এবং গৌহাটি মেডিকেল কলেজকে ৬৫ বছরের পথ অতিক্রম করতে হয়েছে।তিনি জানান, রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষা ক্ষেত্র ধীরে ধীরে আরও উন্নত হচ্ছে। বর্তমানে এএমসিএইচ-এ বিভিন্ন নতুন বিভাগ চালু করা, পুরনো বিভাগগুলোর আধুনিকীকরণ এবং নতুন করে ডিএম (ডক্টরেট অব মেডিসিন) কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে এ ধরনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়নি বলেও উল্লেখ করে বর্তমান সরকারের এসব পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি। পর্যালোচনা বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্য বিমল বরাহ, ডিব্রুগড়ের বিধায়ক তথা হাসপাতাল পরিচালনা সমিতির সভাপতি প্রশান্ত ফুকন, চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক, স্বাস্থ্য বিভাগের আয়ুক্ত-সচিব, অসম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সঞ্জীব কাকতি, অধীক্ষক ডা. ধ্রুবজ্যোতি ভূঞা এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা