পটুয়াখালী থেকে ফিরোজ আহমেদঃ পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘সিংহ ফিস’ (Lionfish)। লাল, সাদা ও মেরুন রঙের আড়াআড়ি ডোরাকাটা শরীর, লম্বা পাখনা ও বিষাক্ত কাঁটায় ঘেরা এই মাছটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি অত্যন্ত বিপজ্জনক। স্থানীয়ভাবে এটি ‘এরোপ্লেন মাছ’ নামেও পরিচিত।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে মাছ দুটি আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘মায়ের দোয়া ফিস’ আড়তে নিয়ে আসেন জেলেরা।
জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ‘এফবি জাবের’ নামের একটি ফিশিং ট্রলারের জালে প্রায় ৭৫০ গ্রাম ওজনের দুটি সিংহ ফিস ধরা পড়ে। পরে মাছ দুটি দেখতে আড়তে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
ট্রলারের মাঝি মো. আসাদ বলেন, “গভীর রাতে জাল তুলতে গিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সঙ্গে এই দুটি মাছ ধরা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। দেখতে অনেকটা এরোপ্লেনের মতো।”
‘মায়ের দোয়া ফিস’-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, “এ ধরনের মাছ আমাদের উপকূলে খুব একটা পাওয়া যায় না। মাছ দুটি পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে মোট তিন হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেছি।”
মাছের ক্রেতা ছগির আকন বলেন, “মাছ দুটি দেখতে খুবই সুন্দর ও আকর্ষণীয়। তাই সংরক্ষণ করে রাখার জন্য কিনেছি।”
‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, “সিংহ ফিস ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর, লোহিত সাগর এবং বঙ্গোপসাগর এলাকায় পাওয়া যায়। সাধারণত প্রবালপ্রাচীরের (কোরাল রিফ) আশপাশে এদের বিচরণ। মাছটির পিঠের ১৮টি কাঁটায় শক্তিশালী বিষ থাকে। এসব কাঁটার খোঁচা লাগলে তীব্র ব্যথা, ফোলা, বমি, মাথা ঘোরা এমনকি শ্বাসকষ্টও হতে পারে।”
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “আমাদের উপকূলে এই মাছ সচরাচর দেখা যায় না। তবে বিষাক্ত কাঁটা ও বিষগ্রন্থি অপসারণ করলে এর মাংস খাওয়া যায়। আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে এটিকে ‘ইনভেসিভ স্পিসিজ’ হিসেবে ধরে খাওয়া হয়। এর মাংস সাদা ও সুস্বাদু। এছাড়া অ্যাকুরিয়ামের জন্যও এটি অত্যন্ত মূল্যবান মাছ। তবে সমুদ্রে এরা ছোট মাছ খেয়ে জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
