স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ভারত নেপাল সংস্কৃতি মৈত্রী কল্যাণ সংঘর সেমিনার সম্পন্ন হলো। সম্মাননা পুরস্কার পেলেন, শিশু ও নারী বান্ধব গবেষক, কবি, সৈয়দা রাশিদা বারী। গত ২৫ শে জুলাই ২০২৬ শনিবার, বিকাল ৫ ঘটিকায় রাজধানী ঢাকায় জমকালো এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। পরিবাগের সাংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে, এ মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উত্তোলন ও গীতিকবি ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্মরণে, কথা আবৃত্তি সংগীত ইত্যাদি পরিবেশিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে নারীরও দেশ এবং সমাজ সংসারে আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা প্রয়োজন, শুধু স্বামীর উপরে আত্মনির্ভরশীল না হয়ে। তাই গ্রাম গঞ্জে কৃষিকাজ পশুপালন ইত্যাদি ছাড়াও শহর মুখি শিক্ষিত নারীরা সাংবাদিকতা ও লেখালেখি সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেও এই বিষয়ে এগিয়ে আসতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এমনিতেও নানাবিধ উন্নয়নে নারীর সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার ভূমিকা অপরিসীম। এই প্রেক্ষিতে নারীদের এগিয়ে যেতে আহ্বান জানান এবং জনগণের ভালোবাসার নতুন এ সরকার যেন নারীর সাংবাদিকতা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চায় সুদৃষ্টি দেন আহবান জানান। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের গর্ব ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক শিল্পী রুনা লায়লা শিল্পকলা একাডেমিতে একক সংগীত পরিবেশ গত ২৪শে জুলাই ২০২৬ করেছেন এবং সেই অর্থ সরকারের তহবিলেই জমা হবে। বিশেষ করে বন্যা দুর্গতদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা হওয়ার কথা। এটাও কিন্তু গর্বিত নারীর সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশের অর্থ উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। সবসময়ই বহির বিশ্বে নারীরা সাহিত্য সংস্কৃতির মাধ্যমে অংশ নিয়ে নিজ দেশের প্রশংসা কুরান। এটাও দেশের অর্জন। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পিছনে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার ভূমিকা অপরিসীম। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে ৭১’র স্বাধীনতা আন্দোলনে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার ভূমিকা ছিলো আকাশছোঁয়া! যা নির্ণয়ের কোন উপায় নাই। সৈয়দা রাশিদা বারী শিশু ও নারীর নানান সমস্যা এবং এর সমাধানও তুলে ধরেন। একজন নারী কর্মী, নারী উদ্যোক্তা, শিশু ও নারী গবেষক হিসেবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মারক সম্মাননা ২০২৬, ক্রেস্ট, মেডেল, প্রশংসাপত্র কবি সৈয়দা রাশিদা বারীকে দেওয়া হয়।
৮ জুলাই ২০২৬ বাংলা একাডেমিতে ‘কবি গোলাম মোস্তফা স্মারক’ প্রদান ও সদ্য প্রয়াত গুণীজন বাংলা একাডেমির ড. এনামুল হক ভবনের কবি আল মাহমুদ কর্নারে জমকালো ও আন্তরিক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘কবি গোলাম মোস্তফা স্মারক’ প্রদান ও প্রয়াত গুণীজনের স্মরণসভা। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয় প্রাঙ্গণটি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান, উপদেষ্টা, বিএনপি চেয়ারপারসন। উদ্বোধক ছিলেন অ্যাডভোকেট মোঃ মাহবুবুল আলাম দুলাল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট কবিচাষী আব্দুল হক এবং সার্বিক উপস্থাপনায় ছিলেন পাণ্ডুলিপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সাচী।
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. কাজী মনিরুজ্জামান, মোঃ আলাউদ্দিন মিয়া, কবি আসলাম সানি, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, কবি সৈয়দা রাশিদা বারী, মিলন মল্লিক, কবি রেবা আফরোজ, মোঃ তাইজুল ইসলাম সাগর, কবি কাজী ফরিদ আহমদ তপন, প্রফেসর ড. আলহাজ্ব মোঃ শরীফ আব্দুল্লাহ হিস সাকী, প্রিন্সিপাল এম. এ. হালিম, এম. এ. জলিল, স্বপন কুমার শাহ, কবি শহিদুল জয়, কবি এখতেদার, মেহের নীগার চঞ্চল, কাজী ফাইকা সিদ্দিকী, মোঃ জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম রাজন, কবি মির্জা শেলী, শিল্পী মেহেদী হাসান, মোঃ জাকির হোসেন এবং শিল্পী আখি।
সভায় প্রয়াত কবি আল মুজাহিদী, বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার এবং অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের জীবন, কর্ম, সাহিত্য, শিল্প ও গবেষণার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বক্তারা তাঁদের সৃজনশীল কর্ম, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া অনন্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি, গবেষক ও সাহিত্যিক সৈয়দা রাশিদা বারী। তিনি তাঁর বক্তব্যে তিন গুণীজনের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের পরিচয়, তাঁদের স্নেহ, প্রেরণা ও সাহিত্যচর্চায় উৎসাহদানের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের সান্নিধ্য তাঁর সাহিত্যজীবন ও গবেষণার পথে এক মূল্যবান প্রাপ্তি, যা তিনি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কবি সৈয়দা রাশিদা বারীর হাতে ‘কবি গোলাম মোস্তফা স্মারক’ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ সম্মাননা তাঁর দীর্ঘদিনের সাহিত্যসাধনা, নারী ও শিশু বিষয়ক গুণী এই লেখক রচনা করেছেন বলতে গেলে প্রায় ৬ শতাধিক গ্রন্থ। গবেষণা ও বাংলা ভাষা-সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে উপস্থিত সুধীজন আন্তরিক অভিনন্দনের মাধ্যমে কবি গোলাম মোস্তফা স্মারক সম্মাননা সৈয়দা রাশিদা বারীকে দেওয়া হয়। এছাড়াও রাজধানীর কেন্দ্রীয় কচি কাঁচার মেলা মিলনায়তনে গত ২৭ জুন ২০২৬ শনিবার, অনুষ্ঠিত হয়েছে কবি সংসদ বাংলাদেশ আয়োজিত ১২তম জাতীয় কবি সম্মেলন-২০২৬। দেশের ৮টি বিভাগ ৬৪ জেলা থেকে আগত প্রায় ৩০০ কবির অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সাহিত্য, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সমকালীন সমাজ নিয়ে আলোচনা, কবিতা পাঠ, সংগীত পরিবেশন নৃত্য এবং মেধা দীপ্তদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে দেওয়া হয় সৃজনশীল লেখক এ যুগীয় নারী উন্নয়নের পথিকৃত গবেষক কবি সৈয়দা রাশিদা বারীকে নারীর আর্থ সামাজিক উন্নয়নে একনিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় ও কাব্য চর্চায় ‘কবি ফররুখ আহমেদ’ সাহিত্য পুরস্কার। সম্মেলন উদ্বোধন করেন জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির চেয়ারম্যান কবি ও সমাজবিজ্ঞানী মু. নজরুল ইসলাম তামিজী। স্বাগত বক্তব্য দেন কবিসংসদ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক কবি তৌহিদুল ইসলাম কনক। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি সরদার তমিজউদ্দীন আহমেদ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. মো. আবু তাহের অ্যাডভোকেট। নারীর আর্থ সামাজিক উন্নয়নের ভূমিকা শির্ষক বক্তব্য দেন পুরস্কারপ্রাপ্ত, নারী গবেষক, নারী আর্থসামাজিক উন্নয়নের উদ্যোক্তা লেখক কর্মী সৈয়দা রাশিদা বারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি, গবেষক ও প্রাবন্ধিক প্রফেসর মো. আমির হোসেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন কবি সংসদ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা কবি ইমরোজ সোহেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এ বি এম মুসা, কবি হারিস মিজান, কবি আসাদ কাজল, কবি মারফিয়া খান এবং সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি কবি হালিমা বেগম। সহ-সভাপতি কবি সৈয়দা রাশিদা বারী।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কবি বাপ্পি সাহা এবং সার্বিক উপস্থাপনায় ছিলেন কবি রনি আক্তার। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতীয় কবি সম্মেলনের আহ্বায়ক কবি ও সাংবাদিক আতিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব কবি ইকবাল হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কবি সুবর্ণা দাস। এর পূর্বে তিনি প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতি মন্ত্রীর সম্মতি ক্রমে হওয়া আয়োজনকৃত অনুষ্ঠান থেকে পেলেন বহু কবিতা লেখার অর্জনে ‘মহাকবি’ উপাধি। এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় গত ১৯শে মে, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যকলা কেন্দ্রীয় সেমিনার হল, সেগুন বাগিচা, ঢাকা। শিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতি গবেষণা সংগঠন ‘পুবের হাওয়া’র আয়োজিত সেমিনারে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে, এক জমকালো আনন্দ উৎসব ও মনোজ্ঞ আলোচনা সভায় পেলেন এ ‘মহাকবি’ উপাধিসহ মেডেল সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট। ‘মহাকবি’ উপাধি পেয়ে তিনি নিজে অলংকৃত হন, বাংলাদেশকে অলংকৃত করেন! যুগে যুগে নারীরা দেশ বিনির্মাণে, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এবং নানান ভাবে ধন্য গর্বিত প্রশংসিত করে দেশের বুকে অবদান রাখেন! ভালো সন্তান উপহার দিয়েও অবদান রাখেন এবং দেশকে মহিমান্বিত করেন। যেমন সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশের কিংবদন্তী কন্ঠ শিল্পী রুনা লায়লা প্রতাপ ২৪ শে জুলাই ২০২৬ একক সঙ্গীত সন্ধ্যা করে দেশকে আলোকিত, মুখোরিত ও গর্বিত করলেন। ওই আয়োজনের উপার্জিত অর্থ অর্থাৎ টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বন্যার্তদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে। এটাও কিন্তু বাংলাদেশের নারী কর্তৃক দেশের জন্য গর্বিত অর্জন অর্থাৎ অবদান। এভাবে দেশ বিদেশে নারীরা সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অংশ গ্রহণ করে দেশের জন্য প্রশংসা কুড়ান। যে কারণে নারীদের শিশু শৈশব কৈশর থেকে অর্থাৎ বাবা মায়ের ঘর থেকেই দেশ সমাজ রাষ্ট্র উন্নয়নমুখী করার জন্য গড়ে তুলতে হবে। তাদেরকে নারী ভেবে পিছিয়ে রাখা ঠিক নয়। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলই তো বলেছেন: “এ বিশ্বের যা কিছু মহীয়ান, চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”! উক্ত আয়োজিত অনুষ্ঠানটির উদ্বোধক ছিলেন শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, উপস্থিত ছিলেন একুশে ও স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত খ্যাতিমান জাতীয় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুকমল বড়ুয়া। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ডক্টর অনিতা রায়, (চেয়ারম্যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র সঙ্গীত বিভাগ)। শিল্পী রোজী আক্তার, শেফালী, কবি নজরুলের দৌহিত্র, কাজী ফাইকা সিদ্দিকা, ডক্টর এস এম রহমান হালিম তনু, (মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত, বিএনপি নেতা) প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. কাজী মনিরুজ্জামান। ২০২৬ সালের মে, জুন, জুলাই ৩ মাসের মধ্যে চার ৪টি সম্মাননা পুরস্কার ও মহাকবি উপাধী পেয়ে দেশটাকে অলংকৃত ও নারী জাতিকে মহিমান্বিত করলেন
কে সেই কবি সৈয়দা রাশিদা বারী? নিম্নে তার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো। সৈয়দা রাশিদা বারী: একজন বহুমাত্রিক লেখক। যাঁর রচনার পরিমাণ বিপুল। তিনি একাধারে কবি, কথাশিল্পী, সাংবাদিক ও গীতিকার। বাংলাভাষা ও সাহিত্যের গবেষক এবং বিজ্ঞানী। তিনি নারী ও শিশু নিয়ে গবেষণা এবং কাজ করার পাশাপাশি প্রকৃতির উপরেও কাজ করেন এবং প্রকৃতি প্রেমিক। প্রকৃতি প্রেমিক প্রকৃতির গবেষক বলতে, আকাশ, মাটি, গাছ, মাছ, ফুল, ফল, পশুপক্ষী ও জীব জানোয়ার কীটপতঙ্গ প্রেমিক এবং গবেষক। নারী, বৃদ্ধ অসহায় বাবা মা এবং অনাথ শিশু গবেষক এবং মানবিক দিক থেকে, মানব অধিকারের প্রশ্নে সংস্কারক। সৈয়দা রাশিদা বারী তিনি একজন মা বাবার পরিসরে ভাই-বোন সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার প্রবক্তা, মুক্তচিন্তক ও লেখক। রাশিদা তিনি মেয়ের বাবার যৌতুক দেবার পক্ষে নন বরং ঘোররিবোধী। দিলমহর যেটা বরপক্ষ নগদ পরিশোধ করতে পারবেন, সেটাই ধার্য করতে তার পরামর্শ এবং তিনি সেটাই গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। তবুও ঘর বাঁধতে দিলমোহরই নিয়ে বিক্রি হতে হবে কেন! বরং আর্থসামাজিক উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও অবদান রাখতে সমান মর্যাদাশীল হয়ে কাজ করতে হবে। তাই সে ভাবেই গড়তে হবে পিতা মাতাদের তাদের সন্তান পুত্র কন্যা উভয়কে বৈষম্য না রেখে। তাহলেই তো দিলমোহর নেওয়া লাগেনা। দিলমোহরেও তো অনেক ভেজাল। দেখা যাচ্ছে অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, লাখ টাকা কোটি টাকা দেনমোহর বেঁধে, শোধ দেওয়ার খোঁজ নেই। এগুলো বেদনার বিস্ফোরক বলেও তিনি মনে করেন। বিয়ের রাত্রে, বর স্ত্রীর কাছ থেকে মাপ চেয়ে নেওয়া অথবা দেনমোহর দেওয়ার পরে স্বামী ওই টাকা ফিরিয়ে নিয়ে ব্যবসা করা ইত্যাদি এসবেরো তিনি পক্ষে নন। কেননা সমাজে একটি নারীর সন্তান প্রজন্ম রক্ষার ক্ষেত্রে দায়িত্ব অনেক যেমন, তেমন মাত্রা ছাড়া এবং জটিল! তাই তিনি নির্ভেজাল ভেজাল মুক্ত মাতা পিতার সহায় সম্পদ ভাইয়ের অর্ধেক কন্যা পান, মানসিক দর্শন ক্ষেত্রে এটাতে পরিষ্কার নন। কন্যার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিবেচনায় আর একজন নারীর নানাবিধ জটিল সমস্যার অর্থে দিলমহরের অর্থ, অন্য কোন বাবদ ব্যয় হওয়ারও তিনি ঘোরবিরোধী। রাষ্ট্রীয় কাজ এবং সামাজিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে, নারীর ক্ষমতায়ন মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নে পুত্র-কন্যাকে বিভেদ বা আলাদা দেখেন না। গবেষণা বিশ্লেষণে তিনি মা-বাবার ঘরে প্রাপ্ত অংশ অর্থ-সম্পদ ও অধিকারের ক্ষেত্রেও, বৈষম্য চান না। তিনি মহান আল্লাহ ও বিশ্বনবী (সাঃ) এর সম্মাননায় পবিত্র হজ্জ পালনের ক্ষেত্রেও বৈষম্য চান না। নীতি জ্ঞানে বিশ্বাসী এই লেখক, ধর্ম দরিদ্রতার শীর্ষে সমঅধিকার গণতান্ত্রিকতা মানবিক মানসিক মূল্যবোধ চান! ধনী গরীব নির্বিশেষে ধর্ম নিরপেক্ষতা তিনি চান। এখানেও তিনি আল্লাহর পাওয়ার সমঅধিকার চান মেধা যোগ্যতা জ্ঞান অর্জনের বিবেচনা বোধ মূল্যায়নে। আল্লাহর উপর দরদী থাকার মূল্যবোধে। টাকার জোরে আল্লাহর পাওয়ার থেকে মনের জোরের যোগ্যতার অধিকারকে বড় করে ভাবেন এবং দেখেন তিনি। তিনি আল্লাহর রাস্তার খাঁটি বান্দা প্রেমিক ও নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাঁটি বান্দা বান্দি ও প্রেমিককে হৃদয়ে লালন এবং ধারণ করেন। ইসলাম ভিত্তিকসহ তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৪শতটি। তবে প্রকাশিত গ্রন্থ ১শতটির উপর। বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশ হওয়ার পথে কাজ চলছে। তিনি ৭হাজারের অধিক গান লিখেছেন। প্রবচন/কথোপকথান লিখেছেন ৫হাজারের অধিক। নিউজ এবং প্রতিবেদন লিখেছেন প্রচুর অগণিত। সৈয়দা রাশিদা বারী এ পর্যন্ত সাহিত্য ও সাংস্কৃতির উপরে সংবর্ধনা, সম্মাননা, পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন এওয়ার্ড, ক্রেস্ট, মেডেল, উত্তরীয়, সার্টিফিকেট, মানপত্র, অভিজ্ঞাত নামা ইত্যাদি স্থানীয়, জাতীয়, আন্তর্জাতিকসহ ৯৫টিরও অধিক। তার দাদা শিক্ষাবিদ শিল্পপতি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলকদের স্পন্সার ও শিল্পী সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষক- সৈয়দ নাসির উদ্দিন ওয়াহিদ আলী মিয়া (১৮৭৪-০৩.০৩.১৯৩৭ইং) তার পিতা: বীর ভাষাসৈনিক, সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা- হাজী প্রয়াত সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ওরফে সৈয়দ জালাল উদ্দিন ওয়াহেদ আলী-পুনু মিঞা (১৯২৬-০৩.০৬.২০০৮ইং)। মাতা: সৌদি আরবের সিটিজেনশিপ, বীর ভাষাসংগ্রামী ও সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ( হজ করেছেন ১৪ বার) মরহুমা সৈয়দা রোকেয়া রফিক ওরফে সৈয়দা রোকেয়া জালাল- তোতা (২৭.০২.১৯৪০- ২৭.১২.২০২০ইং)। উভয়ে অত্যান্ত ইসলামিক মাইন্ডের- ধর্মভীরু ছিলেন। কবি সৈয়দা রাশিদা বারী’র জন্ম: তথা কথিত সংস্কৃতির রাজধানী কুষ্টিয়া। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও চলচ্চিত্রের গীতিকার। সম্পাদক-প্রকাশক জাতীয় সচিত্র মাসিক পত্রিকা ’স্বপ্নের দেশ’ ঢাকা। বহুগুণে গুণান্বিত এই লেখক নানা সময় নানা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন কর্তৃক সাহিত্য-সাংস্কৃতির উপর পুরষ্কৃত ও উপাধি প্রাপ্ত হয়েছেন। সৈয়দা রাশিদা বারী বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র সূর্যসন্তান। তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।
১২৯
