শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: হবিগঞ্জে ঘোষিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা বাদানুবাদ ও ধাক্কাধাক্কির পর পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন দলের নেতাকর্মীরা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের সাতগাঁও এলাকার চা-কন্যা ভাস্কর্য সংলগ্ন স্থানে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, দলের নেতা আখতার হোসেন, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু এবং সংসদ সদস্য আতিক মোজায়েদসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রাপথে এই বাধার মুখে পড়েন।
হবিগঞ্জে এনসিপি ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন আগেই ১৪৪ ধারা জারি করে। এর মধ্যেই মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হলে সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল) ওয়াহিদুজ্জামান রাজুর নেতৃত্বে পুলিশ বালুবাহী ট্রাক ও ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করে। গাড়িবহর কিছুক্ষণ আটকে থাকার পর নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রায় এক ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা চলার একপর্যায়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে ব্যারিকেড অপসারণ ও অতিক্রম করে নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখেন। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে পুলিশের সঙ্গে নেতাদের কথা বলা এবং পরবর্তীতে ধাক্কাধাক্কির দৃশ্য দেখা যায়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হবিগঞ্জের রশিদপুরে পৌঁছান পাটওয়ারী, সারজিসসহ নেতৃবৃন্দ। সেখানে বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তায় বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় হামলার অভিযোগে বুধবার সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি। পাল্টা কর্মসূচি দেয় ছাত্রদল। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।
