মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১৯ আগস্ট) বলেছেন, তিনি এ বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
প্রথম মেয়াদে পরমাণু শক্তিধর দেশটির নেতার সঙ্গে গড়ে তোলা সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে ‘ভালো সম্পর্ক রাখা’ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে এখন ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
তবে, কিমকে নিয়ে ট্রাম্পের হঠাৎ আগ্রহ এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত এশিয়ার মিত্রদের উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতিতে একটি সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে নতুন হেলিপ্যাড পরিদর্শনের সময় ট্রাম্পকে ২০২৬ সালের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি করব।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর মধ্যেও উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দেন ট্রাম্প। ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা ঠেকানোর কারণেই তিনি এ যুদ্ধ চালাচ্ছেন বলে দাবি করে আসছেন।
কিমের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তার কাছে ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। কখনোই এমনটা হতে দেয়া উচিত ছিল না। আমি প্রেসিডেন্ট হলে তা হতে দিতাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু তার কাছে এগুলো আছে। তার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। আমি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিতে পারি না। আর আমি কিম জং উনকে খুব ভালোভাবে চিনি এবং সে ভালোই থাকবে।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, নভেম্বরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের শেনঝেনে যাওয়ার সময় তিনি কিমের সঙ্গে বৈঠকের কথা ভাবছেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে আনুমানিক ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
আন গিউ-ব্যাক আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘আমরা সাধারণত এর সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে ১২০টি বলে ধারণা করি।’ তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিরোধিতা করে যাচ্ছে সিউল।
ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্য থেকে ‘সরে গেছে’ কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আন বলেন, তিনি তা মনে করেন না।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দেশের নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।
বুধবার রাতে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন ও এতে অবদান রাখতে তিনি ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন’।
