শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে মেহেদী হাসান : বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে।
সাধারণত এসব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দলীয় কোন্দল ও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও, এবার সেখানে ৪টি ইউনিয়নের কোনোটিতেই প্রধান দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা ‘বিদ্রোহী’ হয়ে মাঠে নামতে রাজি নন।
কারন হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায় থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করলে তা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং সাথে সাথে স্থায়ী বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন দলের প্রায় শতাধিক সম্ভ্যাব্য প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করতে মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এর মধ্যে সকলেই নিজ দল থেকে মনোনয়ন পেতে দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন।
সম্ভ্যব্য প্রার্থী হিসেবে, উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে, মহিউদ্দিন বাদল, আমিনুল ইসলাম লিটন, আসাদুজ্জামান আসাদ, আব্দুল হক পঞ্চায়েত, রফিকুল ইসলাম, ও জাকির খাঁন। জামায়াত থেকে আলী আহম্মেদ আকন, ইসলামী আন্দোলন থেকে রুহুল আমিন।
খোন্তাকাটা ইউনিয়নে বিএনপির হুময়িুন কবির, মিজানুর রহমান, মহিউদ্দিন শাহজাহান, এম শাশুক হাওলাদার, মামুন শরীফ, জামায়াত থেকে মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির, ইসলামী আন্দোলন থেকে মাওলানা ইসমাইল হোসেন।
রায়েন্দা ইউনিয়নে বিএনপির মোল্লা ইসহাক আলী, বেল্লাল হোসেন মিলন, ফরিদ উদ্দিন মানিক, আব্দুস সবুর আকন, জামাল হাসেন হাওলাদার, জামায়াত থেকে মাওলানা মোস্তফা আমিন, ইসলামী আন্দোলন থেকে ইব্রাহিম বিন আব্দুর রশিদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রিয়াজুল ইসলাম।
সাউথখালী ইউনিয়নে বিএনপির শহিদুল আলম লিটন, রুহুল আমিন হাওলাদার, জামায়াত থেকে সরোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন থেকে ক্বারী শহিদুল ইসলাম প্রমুখ ।
প্রাথমিক পর্যায়ে এদের নাম প্রকাশ পেলেও ভিতরে ভিতরে অনেকে প্রতিদ্বন্দিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সূত্র জানায়।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধান কালে দলীয় নমিনেশন না পেলে, দলের বাইরে গিয়ে কেউ প্রতিদ্বন্দিতা করবেননা বলে সাফ জানিয়েছেন সম্ভ্যব্য প্রর্থীরা।
এদিকে মাঠে প্রচার – প্রচারনায় প্রকাশিত সকল সম্ভ্যব্য প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ত্যাগী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে দলীয় সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। দল যাকে মনোনীত করবে সবাই তার পক্ষে কাজ করে চুড়ান্ত বিজয় অর্জন করার দৃড় প্রত্যায় ব্যাক্ত করেন।
সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী, শহিদুল আলম লিটন জানান, জনসেবা ও বিএনপি আমাদের রক্তে মিশে আছে। সুতরাং দল আমাকে খুঁজবে এমন প্রত্যাশা তার।
মনোনয়ন প্রত্যাশী রায়েন্দা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোল্লা ইসহাক আলী জানান, দল আমাদের মত ত্যাগীদের বাদ দিয়ে প্রবাসী ও বসন্তের কোকিলদের মনোনয়ন দিলে সেটা হবে রহস্য জনক ও অনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ।
ওই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন শতভাগ নিশ্চিত দাবি করে জামাল হাসেন হাওলাদার জানান, দেশে ও দেশের বাইরে মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতা ও দলের জন্য আমার অবদান দল মুল্যয়ন করবে বলে আমি অশাবাদী।
দল মত নির্বিশেষে সাধারন ভোটাররা আমার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ওই ইউনিয়নের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুস সবুর আকন।
একই ইউনিয়নের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রভাবশালী হেভিওয়েট প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন মানিক জানান, ২০১৬ সালে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এই ইউনিয়নে ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে ভোট যুদ্ধ করেছি। তাই দল আমার এই অবদান অবমুল্যয়ন করবেনা।
খোন্তাকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন কবির জানান, দলে দূর্দিনের ত্যাগ, স্বচ্ছ কর্মী ও জনপ্রিয়তা বিবেচনায় আমার বিকল্প নেই। আমি বিশ্বাস করি দল কোন ত্যাগহীন ও ৫ আগষ্টের তারিখের পরের কোন পয়সাওয়ালা প্রবাসীকে নমিনেশন দিবেনা। আর যদি এমনটি হয় তাহলে সেটা হবে দলের জন্য আত্মঘাতী।
ধানসাগর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও মনোনয়ন প্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম লিটন জানান, আমি দলের দূঃসময়ে সর্বস্ব হারিয়েছি। তাই দল আমাদের মত আতত্মৎসর্গকারী কাউকে নমিনেশন না দিলে আমি নীরব ভুমিকা পালন করব।
একই ইউনিয়নের মনোনয়ন প্রত্যাশী, মহিউদ্দিন বাদল, আসাদুজ্জামান আসাদ, রফিকুল ইসলাম, জাকির খাঁন, তারা সকলে দলের প্রতি শতভাগ অনুগত ও সর্বোচ্চ ত্যাগী দাবি করে বলেন, দল আমাদের নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিবে আমরা তা মাথা পেতে নিব।
অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকাটা নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত রাখার জন্য ইতিবাচক। তবে এতে প্রতিদ্বন্দিতার আমেজ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
“বিদ্রোহীশূন্য” এই নির্বাচনী হাওয়া আগামী দিনগুলোতে এলাকার দলীয় রাজনীতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। দলগুলো তাদের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছে এলাকাবাসী।
জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি, এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম জানান, এবারে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চুলচেরা বিশ্লেষন করা হবে। সকল অনৈতিকতা উপেক্ষা করে, জন-সম্প্রিক্ততা ও জন-কল্যান মুলক কাজে যার অবদান বেশি তাকে আমরা প্রধান্য দিব। এক্ষেত্রে দলের বড় কোন পদধারী হতে হবে এমনটি নয়। দলের একজন সমর্থকও জন-প্রিয়তা বিবেচনায় দলের সমর্থন পতে পারে বলে জানান, জেলার এই সর্বোচ্চ নেতা।
