মোঃ উজ্জল মিয়া, শ্রীপুর, গাজীপুর, প্রতিনিধি : গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা সম্রাট ও নিহারকলি নামের উদ্ধার হওয়া দুটি হাতিকে দুই বছর পর শর্তসাপেক্ষে মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বন বিভাগ। নির্যাতন না করা, হাতি দিয়ে টাকা না তোলা এবং জিম্মানামা-মুচলেকাসহ কয়েকটি শর্তে হাতি দুটি তাদের পূর্বের মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার(২০ আগস্ট) বিষয়টি জানিয়েছেন গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বনসংরক্ষক এসিএফ মো. তারেক রহমান।
পার্কে দুটি হাতির মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষের দায়সারা সিদ্ধান্তে দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের নানা রকম অবহেলায় পরপর দুদিনে দুটি হাতির মৃত্যুর পর এবার আরো দুটি হাতি পূর্বের মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দর্শনার্থি আনোয়ার হোসেন বলেন, সাফারি পার্কে প্রাণীদের জন্য নানাবিধ সুবিধা থাকার সত্ত্বেও এখানে প্রাণী গুলি কিভাবে মরে। আর পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে আসলে মরে যায়, আর বাহিরে সাধারণ মানুষের কাছে থাকলে ভাল থাকে এগুলোর কারণে বা কি। এভাবে প্রাণী শূন্য হতে থাকলে দর্শনার্থীরা পার্কে আসবে কি কারণে।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন , শ্রীপুরে অবস্থিত গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে সম্রাট ও নিহারকলি নামের হাতি দুটি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্রাটকে তার মালিক মনির মিয়া এবং নিহারকলিকে তার মালিক আব্দুল মজিদ বুঝে নিয়েছেন। গত ১২ আগস্ট হাতি দুটি হস্তান্তর করা হয় বলেও তিনি জানান।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সড়ক-মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাতি দিয়ে টাকা তোলার অভিযোগে দুই বছর আগে হাতি দুটি উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল। মালিকদের আবেদনের পর নির্যাতন না করা এবং হাতি দিয়ে টাকা না তোলাসহ কয়েকটি শর্তে সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে নিহারকলিকে উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগের দাবী হাতিটি দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হচ্ছিল। সেই সঙ্গে হাতিটিকে নির্যাতনের অভিযোগও ছিল। এ কারণে হাতিটিকে জব্দ করে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল।
একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাহুত নজরুল ইসলামকে পিষে হত্যার পর সম্রাটকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে সাফারি পার্কে আনা হয়।
সম্রাটের মালিক মনির মিয়া জানান, সাফারি পার্ক থেকে হাতিটিকে এনে বর্তমানে মৌলভীবাজার এলাকায় রাখা হয়েছে। সেখানে তার নিজ দায়িত্বে হাতিটিকে লালন-পালন করা হবে।
এসিএফ মো. তারেক রহমান বলেন, হাতির মালিকরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বনবিভাগের কাছে আবেদন করেছিল। তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে হাতি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের আর্থিক সক্ষমতাও যাচাই করে দেখা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে জিম্মানামা ও মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় হাতি দুটি মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন বিভাগের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, মালিকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। হাতি দুটি যাতে নির্যাতনের শিকার না হয়, কষ্ট না পায় এবং চাঁদা তোলার কাজে ব্যবহার না করা হয়—এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে জিম্মানামা নিয়ে হাতি দুটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সাফারি পার্কে দুটি হাতির মৃত্যুর কারণে নয়, মালিকদের আগের আবেদনের পর নিয়ম মেনেই হাতি দুটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এ দুটি হাতি ফেরত দেওয়ার পর বর্তমানে সাফারি পার্কে হাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ টিতে।
উল্লেখ্য, গত ৬ ও ৭ আগস্ট রাজু বাহাদুরসহ পার্কের হাতিশালায় দুটি হাতির মৃত্যু হয়। চলতি বছরের ২৪ মে পার্কের হাতিশালায় শেকলে বাঁধা ১০ বছর বয়সী রাজু বাহাদুরের ওপর হামলা করে ৪ বছর বয়সী হাতি জয়িতা। এতে রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে যায়। চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকে বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা হয় এবং শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয়। সব চেষ্টা ব্যর্থ করি গত ৭ আগস্ট হাতিটির মৃত্যু হয়। অপরদিকে, ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কের আরও একটি হাতির মৃত্যু হয় গত ৬ আগস্ট।
দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর ধারণা পার্ক কর্তৃপক্ষের অযত্ন আর অবহেলার কারণে হাতিগুলো মৃত্যু হয়েছে বিধায় বেগতিক দেখে এ দুটি হাতি তাদের মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া
