শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ বটির কোপে স্ত্রী আহত, জাসাস নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

বটির কোপে স্ত্রী আহত, জাসাস নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

মিলন খন্দকার, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বটির আঘাতে দুই সন্তানের জননী শ্রাবণী আক্তারের (২৩) মাথা ও হাতে শতাধিক শেলাইয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি স্বামী সাবেক জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল( জাসাস) নেতা  জমির উদ্দীন সরকার জনিকে (২৭) গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ১১টা  পর্যন্ত দিকে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন সবরিতলা এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এসময় শ্রাবণী আক্তারের বাবা ছামছুল ইসলাম ও মা মোর্শেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

তারা বলেন, নৃশংস এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। নিরুপায় হয়ে আসামমি গ্রেফতারের দাবীতে তারা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।

এসময় সড়কের দুই পাশে শতশত যানবাহন আটকরা পড়ে। চরম দুর্ভোগের শিকার হন জরুরি কাজে বের হওয়া যাত্রীরা।

পরে পলাশবাড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার উপ পরিদর্শক (এসআই) জুয়েলসহ সঙ্গীয় টীম ঘটনাস্থলে এলে ভুয়া ভুয়া স্লগান দেন বিক্ষুব্ধরা।
পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘন্টার মধ্যে  আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন এলাকাবাসী।

এর আগে গত ৯ আগস্ট গভীর রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার গৃধারীপুর এলাকায় ঘটনা ঘটে।
সেদিন থেকেই তার স্ত্রী ভুক্তভোগী শ্রাবণী আক্তার হাসপাতলে মৃত্যুর সঙে পাঞ্জা লড়ে কোন রকমে প্রাণে বেঁচে বর্তমানে সহায় সম্বলহীন অবস্থায়  বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবাও কপালে জোটেনি আহত এই নারীর।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে পলাশবাড়ী উপজেলার আমবাড়ী গ্রামের আনছার আলীর ছেলে জমির উদ্দীন সরকার জনি মিয়ার (৩২) সঙ্গে শ্রাবণীর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে শ্রাবণীর ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল স্বামী জনি।

সর্বশেষ গত ৯ আগস্ট গভীর রাতে জনির দাবিকৃত টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয় নিয়ে স্ত্রী শ্রাবণীকে মারধর শুরু করে জনি মিয়া। মারধরের এক পর্যায়ে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
এতে ব্যর্থ হয়ে ধারালো বটি দিয়ে মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। পরে গুরত্বর আহত শ্রাবণীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার দিন গভীর রাতে এমন নেক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর পর স্ত্রী শ্রাবণীকে মৃতপ্রায় অবস্থায় নিজেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন অভিযুক্ত স্বামী জনি। সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে মর্মে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতনের শিকার শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম জানান, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে একাধিকবার নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়েছে কিন্তু নির্যাতন থামেনি। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তার অভিযোগ, সেদিন রাতে তার মেয়েকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যায় ব্যর্থ হয়ে এরকম অমানুষের মত নির্যাতন করা হয়েছে। এর যথাযথ শাস্তিমূলক বিচার চান তিনি।

এ ঘটনায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে পলাশবাড়ী থানায় জামাতা জনি মিয়াকে একমাত্র আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম।

জাসাস নেতা জমির উদ্দীন সরকার জনি সম্পর্কে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক খান মোহাম্মদ কাওসার ওয়াহিদ সুজন জানান, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আজ থেকে দুই মাস আগে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি পলাশবাড়ী উপজেলা জাসাসের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খাঁন বলেন, ‘বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নিয়েছে। অভিযুক্ত আসামি জনিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা