বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ খেলা টাঙ্গাইল চ্যাম্পিয়ন, রাঙ্গামাটি রানার্সআপ

অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবল

টাঙ্গাইল চ্যাম্পিয়ন, রাঙ্গামাটি রানার্সআপ

মনোয়ার হোসেন সোহেল, ঘাটাইল টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ প্রান্তিক অঞ্চলের নারী ক্রীড়াবিদরা একদিন দেশের নাম বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করবে : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

টাঙ্গাইলের কাছে ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয়েছে রাঙামাটি জেলা দল। টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক । বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ শহীদ রিয়া গোপ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে গত ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর, রোববার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী খেলা চলে। সারাদেশের ৮ টি বিভাগ থেকে মোট ১৬ জেলার ১৬ টি দলের হয়ে প্রায় ৩’শ মেয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

ঢাকা বিভাগ থেকে টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ । চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম । ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা । খুলনা বিভাগ থেকে সাতক্ষীরা ও খুলনা । রাজশাহী বিভাগ থেকে জয়পুরহাট ও রাজশাহী । সিলেট বিভাগ থেকে মৌলভীবাজার ও সিলেট । বরিশাল বিভাগ থেকে পিরোজপুর । এবং রংপুর বিভাগ থেকে রংপুর জেলা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

সহোদর দুই ভাইয়ের মধ্যে গোলাম রাব্বানী জাতীয় পর্যায়ে, দেশের নারী ফুটবলের কিংবদন্তি কোচ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আরেক ভাই গোলাম রায়হান কাজ করেন তৃণমূলে, টাঙ্গাইল থেকে কৃষ্ণা রানী সরকারের মতো তারকা তুলে এনেছেন। এই কোচ এবার জাতীয় পর্যায়ে নিজের মুনশিয়ানা দেখালেন—টাঙ্গাইলকে আন্তঃবিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন করে।

আসরের ফাইনালে গোলাম রায়হান বাপনের টাঙ্গাইলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি রাঙামাটি জেলা। ৫-১ গোলের বড় জয়ে উল্লাস করেছে টাঙ্গাইলের কিশোরীরা। রাজধানীর ধানমন্ডি শহীদ রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল আন্তঃবিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতার।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার ফাঁকে তিনি জানিয়ে দেন নারী ক্রীড়ার বিকাশে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি অঞ্চলে নারী ক্রীড়াবিদদের ছড়িয়ে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। খেলাধুলার হাত ধরে নারীরা পারিবারিক ও সামাজিক গণ্ডি পেরিয়ে রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরেও এগিয়ে যাবে। এই যাত্রায় সরকার নারী ক্রীড়াবিদদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন , দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ক্রীড়া অবকাঠামো ও মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সগুলোকে কাজে লাগিয়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দিতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার। প্রান্তিক অঞ্চল থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান নারী ক্রীড়াবিদরা একদিন দেশের নাম বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করবে, এমন প্রত্যাশার কথাও শোনান তিনি।

ফাইনাল শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। এ সময় বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।

টাঙ্গাইলের সন্তান হিসেবে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা উপহার দেন সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা