এস.এম. নাহিদ : গাজীপুরের শ্রীপুরের দড়িখোজেখালী গ্রামে আশিকের ঘরে এখন তালা। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর চার সন্তান ও মাকে নিয়ে পৈতৃক জমির পাশে টিনের ঘর তুলেছিলেন পেশায় অটোরিকশাচালক আশিক। চার দিনের মাথায় তাঁকে সেই ঘর ছাড়তে হয়েছে। আশিকের অভিযোগ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম লিটন অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করেছেন। এর আগে পৈতৃক জমিও লিটন নামমাত্র দামে কিনে নিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। এখন চার সন্তান ও মাকে নিয়ে বরমী বাজারের পুরোনো বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন একটি জরাজীর্ণ ভাড়া ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
আশিকের পরিবারের দুরবস্থা দেখে তাঁর মামাতো বোন সেলিনা একটি অটোরিকশা কিনে দিয়েছিলেন। সেটিই ছিল পরিবারের আয়ের প্রধান অবলম্বন। পরবর্তীতে টিনের এই বসত ঘরটি করতেও বোন সেলিনা এগিয়ে আসেন। কিন্তু লিটনের স্ত্রীর করা একটি লিখিত অভিযোগের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। আশিকের ভাষ্য, শ্রীপুর থানার এসআই সামিউল ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা বলে তাঁদের সরে যেতে বলেন এবং মামলা হওয়ার কথাও জানান। এদিকে আদালতের আদেশের কপি দেখতে চাইলে এসআই সামিউল বলেন, অভিযোগকারী তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলেই তিনি এ কথা বলেছেন। অর্থাৎ যে আদালতের আদেশ দেখিয়ে একটি পরিবারকে ঘর ছাড়তে বলা হলো, সেই আদেশের কপিই দেখাতে পারেনি পুলিশ।
বিষয়টি জানতে শ্রীপুর থানার ওসি মো. শাহীনুর আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি প্রথমে কিছু জানেন না বলে জানান। পরে প্রতিবেদকের সামনেই এসআই সামিউলের সঙ্গে কথা বলে ওসি বলেন, আদালতের নির্দেশেই ১৪৫ ধারা জারি করা হয়েছে। কিন্তু থানার বাইরে এসে এসআই সামিউলের কাছে আদালতের আদেশের কপি চাইলে কোন সদুত্তোর মেলেনি। তাহলে ১৪৫ ধারা জারির ভিত্তি কী? আদালতের আদেশ থাকলে তার কপি কোথায়? আর আদেশের নথি না থাকলে পুলিশ কোন আইনি ক্ষমতাবলে একটি পরিবারকে তাদের বসতঘর থেকে সরিয়ে দিল—এসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে লিটনের বিরুদ্ধে জমি দখল, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানা গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা অবশ্যই নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৯ অক্টোবর শ্রীপুর থেকে লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বাইরেও মূল প্রশ্নটি থেকে যায়-আদালতের আদেশের কপি ছাড়াই একজন অটোরিকশাচালক ও তাঁর পরিবারকে কেন ঘরছাড়া হতে হলো? আইনের নামে যদি আইনের নথিই অনুপস্থিত থাকে, তাহলে আশিকের মতো প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে কে?
