এসএম সুমন রশিদ, আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাটটি দুই জেলার মানুষের নদী পারাপারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন গুলিশাখালী, মরিচবুনিয়া, বড়বিঘাই ও ছোটবিঘাই ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ এই ঘাট দিয়ে নদী পারাপার করেন। দীর্ঘদিন ধরে ঘাটটি ব্যবহার হয়ে এলেও বর্তমানে এর অবকাঠামোগত দুরবস্থায় চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকিতে পড়েছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয় বাসিন্দারা আরো দাবী করে বলেন,মেইন বাজারের জায়গা দিয়ে মানুষ ঘাট দিয়ে ওঠানামা করেন।এতে বাজারে আসা ভাষানী দোকানগুলোর মালিকেরা সমস্যাবোধ মনে করেন। তাদের দাবী আগের পুরানো জায়গায় লঞ্জঘাটটি নেয়া হলেও আরেকটি সমস্যা থেকে রেহাই পাবে বাজার কমিটি।
বাজার কমিটি জানান, লঞ্চঘাটটি সাবেক জায়গায় রাখা হলে বাজারে বেচাকেনা করতে আসা লোকজনের নানান দিক থেকে সমস্যা রেহাই পাবে বলে এমনটাই দাবী তাদের।
১৯৭০ সালে কলাগাছিয়া বাজারে লঞ্চঘাটটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।তৎকালিন সময় লঞ্চ চলাচলের মাধ্যমে তখনকার সময় ঘাটটি আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছিলো। আজ সময়ের বিবর্তনে লঞ্চ ঘাটতি আরো পিছিয়ে চলছে।তবে অদ্যবদী পড়ছে না কোন উন্নতির ছোঁয়া।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এই ঘাটটি লঞ্চঘাট হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। সময়ের পরিবর্তনে নৌপথে লঞ্চ চলাচল কমে যাওয়ায় সেই জৌলুস হারিয়েছে ঘাটটি। তবে নদী পারাপারের ক্ষেত্রে এখনো এর গুরুত্ব কমেনি। বরং স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও জরুরি প্রয়োজনে নদী পারাপারের জন্য খেয়াঘাটটিই অনেকের প্রধান ভরসা।আর যখন এ ভরসা নিভরসা হয়ে যাচ্ছে ততই মানুষ ঝুকির ওজনটা বেশি।
কিন্তু বর্তমানে ঘাটের সিঁড়িগুলো ভেঙে পড়ছে। কোথাও কোথাও সিঁড়ির অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে। বর্ষা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় এ দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য নদী পারাপার হয়ে উঠেছে কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।
শুধু সিঁড়িই নয়, ঘাটে যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় যাত্রী ছাউনি, টয়লেট ও বাথরুমেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে নৌযানের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই অবস্থান করতে হয়। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হলে বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে।
স্থানীয়রা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই খেয়াঘাটটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় ধীরে ধীরে জনদুর্ভোগের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঘাটের সিঁড়ি সংস্কারের পাশাপাশি নিরাপদ ওঠানামার ব্যবস্থা, যাত্রী ছাউনি, টয়লেট-বাথরুম নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তিন ইউনিয়নের কয়েকজন যাত্রী বলেন,এই ঘাট আমাদের কাছে শুধু নদী পারাপারের জায়গা নয়, এটি প্রতিদিনের জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘাটটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লেও দেখার যেন কেউ নেই। দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা দরকার।
এ বিষয় গুলিশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো: রফিক বিস্বাস বলেন,এটি প্রতিদিনের জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘাটটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লেও দেখার যেন কেউ নেই। দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা দরকার। এবং লঞ্চ ঘাটটি পূর্বের জায়গায়ই নেয়া হোক। এতে ব্যবসায়ী ভাইদের ও বাজার কর্তৃপক্ষদের অনেক সুবিধা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগে ঘাটটির অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হলে কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। তাই জনস্বার্থে দ্রুত ঘাটটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
