বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশঢাকা পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ব্যবসায়ী হত্যা, নিখোঁজের তিনদিন পর মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ব্যবসায়ী হত্যা, নিখোঁজের তিনদিন পর মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর লালবাগে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামের এক ব্যবসায়ী নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নিখোঁজের তিন দিন পর একটি বাড়ির নিচতলার বালি খুঁড়ে তার হাত-পা বাঁধা ও মুখে পলিথিন পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অলংকার ব্যবসায়ী মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর চারটার দিকে লালবাগের বিসি দাস স্ট্রিট এলাকার ৯ নম্বর বাড়ির নিচতলার ফাঁকা জায়গার বালি খুঁড়ে রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা মর্গে পাঠানো হয়। নিহত শেখ ওয়াসিম রনি যাত্রাবাড়ীর শেখদী এলাকার মৃত শেখ আব্দুল রহিমের ছেলে।

নিহতের মেয়ে রামিসা আক্তার সোনাম জানান, চকবাজারের আসিক টাওয়ারের ইমিটেশন ব্যবসায়ী মাসুমের কাছে তাঁর বাবা ৩ লাখ টাকা পেতেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাসুমের কাছ থেকে পাওনা টাকার চেক আনতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন রনি। এরপর থেকেই তাঁর সাথে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফোনেও কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি।

ওই দিন সন্ধ্যায় রনির সন্ধান করতে তাঁর মাকে নিয়ে লালবাগে মাসুমের বাসায় যান রামিসা। সে সময় বাসায় মাসুমের স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাসুম দাবি করেন, তিনি রনিকে পাওনা টাকার চেক বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং এরপর রনি কোথায় গেছেন তা তাঁর জানা নেই। ওই কথা শুনে রনির পরিবার সেখান থেকে চলে আসে।

পরে ওই রাতেই লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে, জিডি করার সময়ও তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত ঘাতক মাসুম। এমনকি রনিকে খোঁজাখুঁজিতেও তিনি নানাভাবে সহযোগিতা করার নাটক করেন।

রামিসা আরও জানান, এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর বাবাকে মোটরসাইকেল চালিয়ে মাসুমের বাসার গলিতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কিন্তু গলির অপর মাথায় থাকা অন্য কোনো ক্যামেরায় তাঁকে আর পার হয়ে যেতে দেখা যায়নি। অথচ এই দুটি ক্যামেরার মাঝেই রয়েছে মাসুমের বাসা। প্রথম ক্যামেরায় প্রবেশ করলেও তাঁকে আর ফিরে আসতে দেখা যায়নি।

এই সূত্র ধরেই তাদের সন্দেহ তীব্র হয় এবং পুলিশ মাসুমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে মাসুম হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কঠোর বিচার দাবি করেছে শোকার্ত পরিবারটি।

লালবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জামিল হোসেন জানান, নিখোঁজের জিডির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ব্যবসায়িক লেনদেনে জড়িত মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তার দেখানো মতে নিজ বাসার নিচতলার বালি খুঁড়ে রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক মাসুম জানিয়েছে, বাসার ভেতরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মাথায় ঘুষি মারলে রনি ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তার হাত-পা বেঁধে ফেলা হয় এবং গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বাসার নিচতলার ফাঁকা জায়গায় বালি খুঁড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। উদ্ধার করা মরদেহটি ইতোমধ্যে পচন ধরতে শুরু করেছিল।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুমকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ব্যবসায়িক ৩ লাখ টাকা পাওনা কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

 

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা