খুলনা থেকে বি এম রাকিব হাসান : খুলনার বাজারে সবজি, মুরগি ও ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে এবং কাঁচাবাজারে এক ধরনের ‘আগুন’ অবস্থা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়া এর প্রধান কারণ বলে বিক্রেতারা জানাচ্ছেন।
সম্প্রতি খুলনা মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী খালিশপুর, দৌলতপুর এবং গল্লামারী কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে এই চড়া বাজারের তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে। টানা বৃষ্টি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজিখেত পানিতে তলিয়ে যাওয়া এবং খুলনাঞ্চলে উৎপাদন কম থাকায় সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে এই অস্বাভাবিক ‘আগুন’ অবস্থা তৈরি হয়েছে।
সূত্রমতে, সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বদলে গেছে খুলনার নিত্যপণ্যের বাজারের চিত্র। কাঁচা মরিচ ও সবজির বাজারে লাগামহীন দরবৃদ্ধির পাশাপাশি কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়েছে মুরগির দাম। নতুন করে ডজন প্রতি ডিমের দাম বাড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। বাজারে বর্তমানে পটল ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০-৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা এবং ঝিঙা ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে কাঁচা মরিচে, যা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। এছাড়া বাজারে মিষ্টি কুমড়া ৫৫-৬০ টাকা, কাঁকরোল ৮০-১০০ টাকা, লাউ ৫০-৬০ টাকা এবং পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা কেজিতে মিলছে। পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা ও রসুন ১০০-১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজার গত সপ্তাহের মতোই চড়া। আকারভেদে রুই-কাতল ৩৫০-৬৫০ টাকা, পাঙাশ ২৫০-৩৫০ টাকা এবং চাষের কই ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ইলিশ, বেলে কিংবা দেশি মাছের ক্ষেত্রে দাম ছাড়িয়ে গেছে হাজার টাকার ঘর। বিশেষ করে গলদা ও বাগদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৯০-১৯৫ টাকায়। এছাড়া কক মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৭০-৬২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হালিতে ২-৩ টাকা বেড়ে ডিমের দাম ঠেকেছে ৪৬-৪৮ টাকায় (ডজন ১৩০-১৫০ টাকা)। বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৫০-৮০০ টাকায়।
গল্লামারী বাজারের সবজি বিক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, অনাবৃষ্টির কারণে ক্ষেতে সবজির সরবরাহ কম থাকায় চলতি সপ্তাহে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে আবার দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে বাজারের এমন ঘন ঘন দরবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। গল্লামারী বাজারে আসা ক্রেতা এস এম শামীম আহমেদ বলেন, “এক সপ্তাহ দাম সামান্য কমলে পরের সপ্তাহেই দ্বিগুণ হয়ে যায়। কিছুদিন আগের ৪০-৪২ টাকার ডিমের হালি এখন ৪৮ টাকা। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, বাজারে নিয়মিত কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।”
