শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীন পুলিশ লাইনে সংযুক্ত

হবিগঞ্জে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা :

এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীন পুলিশ লাইনে সংযুক্ত

হবিগঞ্জ থেকে লিটন পাঠান : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় জমিজমা ও চলাচলের রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আদালতে যাওয়ার পথে এক নিরীহ পরিবারের তিন সদস্যকে ‘ইয়াবা নাটক’ সাজিয়ে গ্রেফতারের অভিযোগে এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীন কে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের নবাগত সহকারী পুলিশ সুপার রাফিউর রহমান বলেন,বিভাগীয় ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের কে পুলিশ লাইনে গতরাতেই সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪-সেপ্টেম্বর)২০২৬ সকালে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা হলেন, কালিশিরী গ্রামের বাসিন্দা ছায়েদ মিয়া, তার ভাই ইউনুস মিয়া এবং ইউনুস মিয়ার মেয়ে জাসমিন আক্তার।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়ার পরিবারের সঙ্গে চলাচলের রাস্তা নিয়ে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে ছায়েদ মিয়া, ইউনুস মিয়া ও তার মেয়ে জাসমিন আক্তার আদালতে হাজিরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে বগাডুবী এলাকায় পৌঁছালে চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ এবং প্রতিপক্ষ শিবলী ভূঁইয়া ও পুলিশ সদস্য রিপন আমিনের লোকজন তাদের গতিরোধ করে।

অভিযোগ উঠেছে, তল্লাশির নামে জোরপূর্বক তাদের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কোনো পরোয়ানা ছাড়াই তাদের গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সংবাদটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সকালে শত শত গ্রামবাসী চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রর্দশন করেন এবং এসআই মামুনসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।

খবর পেয়ে সাবেক সংসদ সদস্যের ভাই ও স্থানীয় সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় মেম্বার ও মুরুব্বিরা থানায় গিয়ে ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।

ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের মামলা কোর্টে চলছে। আমরা আইনজীবীর কাছে যাচ্ছিলাম। প্রতিপক্ষ পুলিশের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক নাটক সাজিয়ে আমাদের ফাঁসিয়েছে।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, যদি এটি সাজানো ঘটনা হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের ব্যত্যয় ঘটাতে দেওয়া হবে না।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা