শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ জনতা ব্যাংক পিএলসি.কমলনগরে শাখার দাবি দীর্ঘদিনের : হুইপের হস্তক্ষেপ কামনা

জনতা ব্যাংক পিএলসি.কমলনগরে শাখার দাবি দীর্ঘদিনের : হুইপের হস্তক্ষেপ কামনা

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) থেকে মোহাম্মদ ছাইফ উল্লাহ হেলাল : লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর কোনো শাখা না থাকায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারীসহ হাজার হাজার হিসাবধারী গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

দুর্ভোগ লাঘবে ইতোমধ্যে একাধিক আবেদন করা হয়েছে। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমলনগরে জনতা ব্যাংকের একটি উপশাখা অনুমোদন হয়েছে এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে বলে বিশ্বস্ত স‚ত্রে জানা গেছে।

এ অবস্থায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দ্রুত ছাড়পত্র নিয়ে উপশাখাটি স্থাপনের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক, কর্মচারীসহ কমলনগর উপজেলার সর্বস্তরের গ্রাহকরা।

সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যাংকটির শাখা না থাকায় উপজেলার এমপিও ভূক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্্রাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতা উত্তোলনসহ অন্যান্য লেনদেনের নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে তাদেরকে উপজেলার বাইরে দুরবর্তী উপজেলা রামগতির চরআলেকজান্ডারে যেতে হচ্ছে।

কমলনগরের আল-আরাফাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ নুরুল আমিন জানান, গত বছর ঈদুর ফিতরের আগের দিন প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-বোনাসের টাকা উত্তোলন করে ফেরার পথে তারই অফিস সহকারীকে নেশা খাইয়ে সমুদয় টাকা লুটের ঘটনায় দুর্বিপাকে পড়েন তারা।

চরবসু এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, ব্যাংকের শাখা না থাকায় মাসের বেতন-ভাতা উত্তোলনে শিক্ষক-কর্মচারীদের ছুটি নিয়ে দুরবর্তী শাখায় যেতে হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের শিখন কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য চাকুরীজিবি বিনিয়োগ গ্রহণেও বিধিমোতাবেক গ্রাহক, জামিনদার ও পারিবারিক গ্যারান্টরের ব্যাংকে যাতায়াত বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এতে একদিকে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গ্রাহকদের। শিক্ষকদের পক্ষ হতে এসব ভোগান্তির বিষয় উল্লেখ করে ইতিমধ্যে ব্যাংকের একটি শাখা/ উপশাখা চেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উর্ধ্বতনে একাধিক আবেদন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওইসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সার্ভে, উপশাখা খোলার প্রয়োজনীয়তা, ব্যবসায়িক সম্ভাব্যতা ও আনুষঙ্গিক উপযোগিতা যাচাই শেষে কমলনগরে জনতা ব্যাংকের একটি উপশাখা অনুমোদন করা হয়। জনতা ব্যাংক স্মারক নং বিডিএমডি/উপশাখা/হাজিরহাট-৩৫/২০২৬/৩৫৭, তারিখ: ১৩/০৫/২০২৬ ইং মূলে পরিচালক, ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-০১, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকায় বরাবরে জনতা ব্যাংক পিএলসি., চর আলেকজান্ডার শাখা, লক্ষ্মীপুরের নিয়ন্ত্রণাধীন কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট বাজার এলাকায় “হাজিরহাট উপশাখা”, লক্ষ্মীপুর (পল্লী) নামে একটি নতুন উপশাখা খোলার বিষয়ে চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করে। জনতা ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রিয়াজ হোসেন ফেরদৌস স্বাক্ষরিত পত্রটি পরদিন ১৪/০৫/২০২৬ইং তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়ে রিসিভ করা হয়। অদ্যাবধি তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সহ ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে চরআলেকজান্ডার শাখা ব্যবস্থাপক দেবব্রত নাথ জানান, কমলনগরের গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ ও অধিক সেবা নিশ্চিত করতে তার শাখাধীন অনুমোদিত ‘‘হাজিরহাট উপশাখা’’ বিধিমোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের চুড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষ কার্যক্রম চালু সম্ভব হবে।

হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন বলেন, এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের বেতন-ভাতা বন্টনকারী হিসেবে একমাত্র নির্ধারিত জনতা ব্যাংকের শাখা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারীরা। দুর্ভোগ লাঘবে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান মহোদয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

কমলনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, ‘২০০১ সনে নির্বাচিত হয়ে এমপি এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান জনবহুল বৃহত্তর রামগতি উপজেলাকে বিভাজন করে পৃথক নবগঠিত কমলনগর উপজেলা করে প্রশাসনিক সুবিধাদি নিশ্চিত করেন। ব্যাংকিং খাতের জনতা ব্যাংকের এ সেবাপ্রাপ্তিও সহজ ও নিরাপদ করতে উপশাখাটির অনুমোদন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একই এমপি ও হুইপ মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

ভুক্তভোগী শিক্ষক, ব্যবসায়ী সহ সরকারি- বেসরকারি চাকুরীজীবি সকলের প্রত্যাশা, “স্থানীয় সাংসদ ও হুইপের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়িত হবে এবং কমলনগরের হাজার হাজার গ্রাহকের ব্যাংকিং সেবার ভোগান্তি দূর হবে।”

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা