সিলেট থেকে কামাল উদদীন আহমেদ : আগামী ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে এবং আগামী ১২ মাসের মধ্যেই এই মহাসড়কটির নতুন অবয়ব স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের দক্ষিণ সুরমা চন্ডিপুলস্থ কুশিয়ারা কনভেনশন হলে ‘সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ’-এর অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং এ অঞ্চলের শিল্প উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে কেবল পরিকল্পনা হলেও বাস্তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার এটি দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজার পর্যন্ত পুরানো সড়কটিকে নতুন ৪ লেনের হাইওয়েতে রূপান্তর করা হবে।
রেল যোগাযোগে যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ইতিমধ্যে ডুয়েলগেজ লাইন রয়েছে। আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। দরকষাকষি শেষে দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। এটি সম্পন্ন হলে সকালে সিলেটে থেকে ট্রেনে চেপে ঢাকায় দাপ্তরিক কাজ শেষ করে সন্ধ্যায়ই সিলেটে ফিরে আসা সম্ভব হবে। একই সাথে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের বিদ্যমান গ্যাপ দূর করে একই মানের উন্নত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিলেটে উৎপাদিত পণ্য কার্গো ট্রেনের মাধ্যমে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন কোম্পানি গঠন, ট্রেড লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স, আইআরসি ও মেশিনপত্র আমদানির এলসি খোলার পুরো প্রক্রিয়া আগের ৩৫৫ দিনের বদলে মাত্র ১৪ কর্মদিবসে (২ সপ্তাহ) নামিয়ে আনার ব্যবস্থা চলছে। পাশাপাশি সিলেটের সিএমএসএমই শিল্পকে বেগবান করতে দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমির ওপর একটি নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, চলতি বছরই যার উন্নয়নকাজ শুরু হবে।
নগরীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার কোনো স্থান হবে না। সিলেট শহরকে নিরাপদ রাখতে সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) যৌথ পরিচালনায় পুরো শহরকে ড্রোন, ফেস রিকগনিশন ও ইনফ্রারেড প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি সেবার আধুনিকায়ন ও দুর্নীতি রোধে আরজেএসসিসহ বিভিন্ন সেবায় ফেস রিকগনিশন ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে অনলাইন ভেরিফিকেশন চালুর কথা জানান তিনি। এছাড়া সিলেটের ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষ করে তুলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘এআই ট্রেনিং সেন্টার’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) গড়ে তোলার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
