বিনোদন ও সংস্কৃতি ডেস্ক : মাটি ও মানুষের জীবন, বাংলার লোকঐতিহ্য আর শেকড়ের কথাকে সৃষ্টির ভুবনে ধারণ করা পল্লীকবি আবদুল হাই মাশরেকীর ১১৭তম জন্মোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা সমাপ্ত হয়েছে। মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এক জমকালো সমাপনী পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই উৎসব।
‘এবার জাগাও মোরে’—কবির কালজয়ী কবিতার এই বাণীকে স্মারক করে আয়োজিত এই উৎসবের শেষ দিনে গীতিনৃত্য, জারী, কবিতা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
গেন্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় কবির রচিত বিখ্যাত গান ও আলেখ্য—‘আজান হাঁকো’, ‘দুখু মিয়ার জারী’, ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ এবং ‘সোনার আর বান্ধাইলে নাও’ দিয়ে সমাপনী আয়োজনের পর্দা ওঠে। সুরের মূর্ছনা শেষে শুরু হয় কবির জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণামূলক আলোচনা সভা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম বলেন, “কবি আবদুল হাই মাশরেকীর অসংখ্য জনপ্রিয় সৃষ্টি আজও আমাদের দেশের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিরন্তর অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে। মানবতা, সমাজচেতনা ও গভীর মানবিক মূল্যবোধই তার সাহিত্যের মূল প্রতিপাদ্য।”
কবির সাহিত্য ও জীবনদর্শন স্মরণ করে তার পুত্র এবং ‘কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্র’-এর আহ্বায়ক নঈম মাশরেকী বলেন, “আবদুল হাই মাশরেকীর বিপুল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রয়েছে লোকঐতিহ্যের নানা রত্ন। তার লেখা বহু গান ও কবিতা শতাব্দীর সীমা পেরিয়ে আজ অবধি মানুষের হৃদয়ে জাগ্রত রয়েছে।”
কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্রের উপদেষ্টা ও উত্তরা’র ঈশ্বরগঞ্জ ফোরামের সভাপতি মো. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নজরুল ভাবুক এইচ এম সিরাজ, বিশিষ্ট গবেষক গাউসুর রহমান, চিত্রশিল্পী সন্তু সাহা এবং আবু তাহের বকুল।
সমাপনী সন্ধ্যায় শিল্পকলার মঞ্চে গান, কবিতা আবৃত্তি, ঐতিহ্যবাহী জারী ও কোরিওগ্রাফিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। আয়োজন শেষে বিভিন্ন বিভাগে বিশেষ অবদানের জন্য গুণীজনদের হাতে ‘মাশরেকী পদক ২০২৫’ হিসেবে ক্রেস্ট, মেডেল ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি উদীয়মান শিশু-কিশোরদের মাঝে প্রদান করা হয় ‘মাশরেকী পুরস্কার ২০২৬’।
মাশরেকী পদক ২০২৫ পেলেন যারা:
শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন অঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর পদক পেয়েছেন—
শিক্ষা: শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, সাহিত্য ও সাংবাদিকতা: কবি আবদুল হাই শিকদার, প্রশাসন: মো. শাহ আলম, চিত্রকলা: সৈয়দ লুৎফুল হক (মরণোত্তর) আইন ও সমাজসেবা: মো. বোরহান উদ্দিন, গবেষণা: গাউসুর রহমান, লোকসংগীত: আবদুর রহিম, বিশেষ অবদান: মরণোত্তর শহীদ বুদ্ধিজীবী মো. আরজ আলী, মরণোত্তর কবি শাহরিয়ার হোসেন সাব্বির, কলামিস্ট ফাহমিদা চৌধুরী, সংগঠক মো. মজিবুর রহমান এবং কবি মিজান মাহমুদ।
