কক্সবাজার থেকে এইচ এন আলম : কক্সবাজার সদর উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপ-সচিব পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ঘুষ হিসেবে জমি নেওয়ার অভিযোগে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
৩০ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।
মামলার অনুমোদন পাওয়া আসামিরা হলেন—কক্সবাজার সদর উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপ-সচিব পঙ্কজ বড়ুয়া, সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূর, সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনের শ্যালক মফিজুর রহমান, সৈয়দ নূরের শ্যালক ইফতেখারুল হাসান এবং পঙ্কজ বড়ুয়ার দাদী শাশুড়ি দীপিকা বড়ুয়া।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আদালতের ডিক্রি পাওয়ার পর কক্সবাজার মৌজার ৩০ শতক জমির নামজারি খতিয়ান করার জন্য সংশ্লিষ্ট মালিক রেকর্ডপত্র জমা দেন।
অভিযোগ রয়েছে, নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে ঘুষ হিসেবে জমি দাবি করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে তিনি ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের মাধ্যমে মোট ৯ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন।
এর মধ্যে তৎকালীন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনের পক্ষে তার শ্যালক মফিজুর রহমানের নামে ৩ শতক, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূরের পক্ষে তার শ্যালক ইফতেখারুল হাসানের নামে ৩ শতক এবং তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পঙ্কজ বড়ুয়ার পক্ষে তার দাদী শাশুড়ি দীপিকা বড়ুয়ার নামে ৩ শতক জমি রেজিস্ট্রি করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আবুল হোসেন ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর মারা যাওয়ায় তাকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬২ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
