মনোয়ার হোসেন সোহেল, ঘাটাইল টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : প্রবাসী বাবার একমাত্র মেয়ে তামান্না ইসলাম তুরি ( ১৮) । বিয়ে হয়েছে মাত্র ৭ মাস। পারিবারিক ভাবেই পাশের উপজেলার ইয়ান নুমানের (৩৪) সঙ্গে বিয়ে হয়। প্রথম দিকের দিন গুলো ভালই যাচ্ছিল । ভালো দিন গুলো খুব তাড়াতাড়ি কেড়ে নেয় মোবাইল জুয়া । তামান্না ইসলাম তুরী নামের এই গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে । এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ইয়ান নুমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর খিলগাতি পূর্বপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূ তামান্না ইসলাম উত্তর খিলগাতী মধ্যপাড়া গ্রামের প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। ঘাতক স্বামী মোহাম্মদ ইয়ান নুমান পার্শ্ববর্তী মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চাপারকোনা গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে। নুমান স্থানীয়ভাবে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
তামান্নার পরিবার সূত্রে জানা যায় , ইয়ান নুমান ঘাটাইলে শ্বশুর বাড়িতে এসে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী তন্বীকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘাটাইল ও মধুপুর থানা পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে স্বামী ইয়ান নুমানকে আটক করে।
নিহত তামান্না ইসলাম এর মা বলেন, অল্প কিছুদিন আগে আমার স্বামী বিদেশ থেকে এসে অনেক টাকা খরচ করে পারিবারিকভাবে নুমানের সঙ্গে একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেয়। সে সময় ৭ ভরি স্বর্ণসহ মোটা অঙ্কের নগদ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। এরই মধ্যে মেয়েকে দেওয়া স্বর্ণ ও নগদ টাকা মোবাইলে জুয়া খেলে নষ্ট করে ফেলে নুমান। ফলে প্রায় সময়ই মেয়েকে বাড়ি থেকে মোটা অঙ্কের টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। আমরা আরও টাকা দিতে না পারায় সে আমার মেয়েকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও মারধর করতো। এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাগ করে স্বামীর বাড়ি থেকে শাশুড়িকে বলে আমার বাড়িতে চলে আসে।
তিনি আরও বলেন, মাঝখানে চার-পাঁচ দিন মেয়ের কোনো খোঁজ না নিয়ে হঠাৎ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে নুমান আমার বাড়িতে আসে। এরপর সে আমার মেয়েকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে। স্বামীর সঙ্গে সে যেতে অস্বীকৃতি জানালে আমার সামনেই তাকে কয়েকদফা মারধর করে। পরে দু’জনেই রাতের খাবার না খেয়ে আমার বাড়ির নিচতলার বেডরুমে গিয়ে ঘুমানোর উদ্দেশ্যে শুয়ে পড়ে। পরে আমি দোতলায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ মধ্যরাতে আমার মেয়ের ডাকচিৎকার শুনে নিচে নেমে এসে দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করতে থাকি। এ সময় ঘরের ভেতরে থেকে মেয়ের কান্নার শব্দ শুনতে পাই।পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় আমার মেয়েকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি। স্থানীয়দের সহায়তায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোরে চিকিৎসার জন্য মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা আমার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোকছেদুর রহমান জানান, গৃহবধূ তামান্না ইসলাম তুরীর স্বামী ইয়ান নুমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
