শনিবার | অক্টোবর ৩, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ সংঘর্ষ থামলেও কাটেনি আতঙ্ক, মালামাল নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন বিজয়নগরের মানুষ

সংঘর্ষ থামলেও কাটেনি আতঙ্ক, মালামাল নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন বিজয়নগরের মানুষ

বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে মো. কেফাইতুল ভুঁইয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত হলেও কাটেনি আতঙ্ক। সংঘর্ষের ক্ষত ও গুজবকে কেন্দ্র করে ইছাপুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নতুন করে উদ্বেগ। ভয়ে ঘরের আসবাবপত্র, ফ্রিজ, এসি, বিছানাপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন অনেক পরিবার। সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ গৃহপালিত পশুপাখিও।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত আক্তার চেয়ারম্যান গ্রুপের নুরে আলম এবং বকুল চেয়ারম্যান গ্রুপের বিল্লাল বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরই মধ্যে নুরে আলমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে তার মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে বুধবার বিকেল থেকে অনেকে পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভ্যান, অটোরিকশা ও ট্রাকে করে ঘরের আসবাবপত্র, ফ্রিজ, এসি, বিছানাপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেক পরিবার গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগিও সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন বলে জানান তারা। অনেক পুরুষও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

এদিকে সংঘর্ষে আহত দুই পক্ষের দুই ব্যক্তি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এর মধ্যে নুরে আলমের মৃত্যুর গুজব বারবার ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আক্তার চেয়ারম্যান গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা কারও বাড়িতে হামলা করতে চান না। আতঙ্কিত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন নিজেরাই এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।

সংঘর্ষের পর এখনো ইছাপুরা ইউনিয়নের পরিস্থিতি থমথমে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, গুজব ছড়িয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি সংঘর্ষের পর যারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল চলছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা