বিজয়নগর, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে মোহাম্মদ কেফাইতুল ভুঁইয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় মাদক বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তির বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের খাটিংগা গ্রামের শান্তামুড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে জহির মিয়ার বাড়িতে হামলা চালান এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়ি থেকে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে এলাকার তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ছিল বলে দাবি তাঁদের।
খাটিংগা গ্রামের বাসিন্দা মো. সরল খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘জহিরের কারণে এলাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদক সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার অনেক তরুণ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছিল। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তাঁকে থামানো যাচ্ছে না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত বুধবার মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় গ্রামের কয়েকজনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় দুজনকে দা দিয়ে কোপানো হয় এবং তাঁদের একজনের হাতে ১৫টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরল খানের অভিযোগ, জহিরের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা থাকলেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মাদক বিক্রি বন্ধ করতে না পেরে শুক্রবার সকালে শতাধিক এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
ঘটনার পর থেকে জহির মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আউলিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘যাঁর বাড়িঘরে হামলা হয়েছে, তাঁর তথ্য যাচাই করে জানতে পেরেছি, তাঁর বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি মাদক মামলা এবং দুটি মারামারির মামলা।’
নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা সমাজের জন্য অশনিসংকেত। কারও বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলে তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারেন, কিন্তু নিজেরা আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না।’
তিনি জানান, জহির মিয়ার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
