সোমবার | অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ রাঙামাটির সাবেক পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার সত্যতা মিলেছে

রাঙামাটির সাবেক পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার সত্যতা মিলেছে

রাঙামাটি থেকে মো নাজিম আলী : ​রাঙামাটিতে সাবেক কাউন্সিলর নেয়াজ আহমদের বিরুদ্ধে আনিত ধর্ষন চেষ্টা ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ ভুক্তভোগী গৃহবধূ কানিজ সুলতানা কেয়া (২৬) বাদী হয়ে রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জুডিশিয়াল তদন্তের নির্দশ দেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এতে সাবেক কাউন্সিলর নেয়াজ আহমদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মাকসুদা হক জানান, এ মামলায় আসামীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আদালত বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী নির্দেশের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

​অভিযুক্ত নেয়াজ আহমেদ (৫০) রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এবং ডিসি বাংলো এলাকার বাসিন্দা।

গত ৭ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগি এক গৃহবধু। (মামলা নং- ১৮/২৬, কোতোয়ালী)। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ)/১০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৩/৪০৬/৪২০/৫০৬(ii) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
​মামলার বিবরণ অনুযায়ী জানা যায়, অভিযুক্ত নেয়াজ আহমেদের সঙ্গে বাদীনির পরিবারের পূর্বপরিচয় থাকার সুবাদে তিনি প্রায়ই বাদীনির বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে ব্যবসায়িক সংকটের কথা বলে সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওই গৃহবধূর কাছ থেকে ১ মাসের জন্য হাওলাত হিসেবে ৫ ভরি ২ আনা স্বর্ণালংকার নেন। পরবর্তীতে স্বর্ণালংকার ফেরত না দিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে কুপ্রস্তাব এবং কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। রাজি না হলে স্বামী ও তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং ডিভোর্সের হুমকি দেওয়া হয়।

​অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাতে আসামি বনরূপার কাটা পাহাড় লেইন এলাকায় গৃহবধূর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে শারীরিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে জোরপূর্বক বেডরুমে নিয়ে ধর্ষণের অপচেষ্টা চালান। পরবর্তীতে গৃহবধূর চিৎকারে তার স্বামী চলে এলে আসামি পালিয়ে যান।

​সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ফোনে গৃহবধূকে সোনা ফেরত না দেওয়ার ঘোষণা এবং মুখ খুললে প্রাণনাশের হুমকি দেন অভিযুক্ত সাবেক এই কাউন্সিলর। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিকভাবে মীমাংসার নামে কালক্ষেপণ করা হলে পরবর্তীতে থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন।

​ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

অভিযুক্ত নেয়াজ আহমেদ বলেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আনিত অভিযোগের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই দাবি করে তিনি বলেন,আমার আত্মীয়তার সম্পর্কে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছ। বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আপোষ হয়েছে বলে তিনি জানান।

কোতয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন কানিজ সুলতানা নামে এক গৃহবধূ একদিন থানায় এসেছিলেন জিডি করতে। আমি নিজেই ওই গৃহবধুকে অভিযোগ করার পরামর্শ দিই। এখন শুনেছি বিষয়টি আপোষ হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা