শনিবার | অক্টোবর ৩১, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ, বিজয়নগরে শিক্ষক কারাগারে

পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ, বিজয়নগরে শিক্ষক কারাগারে

মো. কেফাইতুল ভুঁইয়া, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাবেদুর রহমানকে যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়ার আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ ও বাদীপক্ষের সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. জাবেদুর রহমানের সঙ্গে বাদীর ২০২০ সালে পারিবারিকভাবে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। তাঁরা দুজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামীর বিরুদ্ধে অসহনীয় নির্যাতন, মানসিক হয়রানি ও যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দাম্পত্য কলহের জেরে পারিবারিকভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং সালিশে অভিযুক্ত স্বামী শ্বশুরবাড়ি থেকে নতুন করে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার দাবি জানান বলে অভিযোগ করেন স্ত্রী।

অভিযোগ অনুযায়ী, যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ৭ আগস্ট স্বামী তাঁর স্ত্রীকে দুই কন্যাসন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে নিরুপায় হয়ে স্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত শিক্ষক আপসের কথা বলে আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন পান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। পরপর দুই দফা অস্থায়ী জামিন পাওয়ার পরও আপস না হওয়ায় গত ২৫ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন তিনি। এ সময় আদালত তাঁর আগের অস্থায়ী জামিন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মো. জাবেদুর রহমান আপসের শর্তে অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। তবে আপস না করে তিনি স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত তাঁর অস্থায়ী জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জানান, যৌতুকের মামলায় তাঁর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাবেদুর রহমান কারাগারে রয়েছেন। এ কারণে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় তাঁকে অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

বিজয়নগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, যৌতুকের মামলায় কারাগারে থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. জাবেদুর রহমানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা