মোঃ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, স্ত্রীকে মারধর, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. জয়নাল আবেদীন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে কটিয়াদী পৌর সদরের মোহাম্মদীয়া রেস্টুরেন্টের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে জয়নাল আবেদীন জানান, উপজেলার দড়ি চরিয়াকোনা মৌজায় তাঁদের পৈতৃক বসতভিটার ২২ শতাংশ জমির মধ্যে ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ জমি তাঁর দাদার সম্পত্তি। ভুলবশত মাঠ জরিপে ওই জমি তাঁর বাবার নামে রেকর্ড হয়। এ নিয়ে ভুল রেকর্ড সংশোধন ও জমির সঠিক হিস্যা নির্ধারণের জন্য কটিয়াদী সিভিল জজ আদালতে ৭৮/২০২৬ নম্বর বাটোয়ারা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
তাঁর অভিযোগ, তাঁর সৎ ভাই মহসিন নিজেদের পরিবারের অন্য সদস্যদের অগোচরে বিরোধপূর্ণ জমির নিজের হিস্যা দাবি করে হাফিজুলের কাছে বিক্রি করেন। এরপর হাফিজুল তাঁদের জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন।
জয়নাল আবেদীনের দাবি, গত ৩ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হাফিজুল, জাকির হোসেন, আলমগীর ও মহসিনসহ ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি তাঁদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালান। এ সময় তাঁর স্ত্রী কুহিনুর বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর বাম হাত, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তাঁর স্ত্রীর পরিহিত কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া হামলার সময় আলমগীর তাঁর স্ত্রীর গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন জয়নাল। হামলাকারীরা বসতঘর, টিউবওয়েল, বাথরুম ও গোসলখানা ভাঙচুর করে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পরে আহত স্ত্রীকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও প্রতিকার না পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবেদীন বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন। তাঁরা আদালতের মাধ্যমে এর সমাধান চান। তবে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বর্ণের চেইন উদ্ধারে পদক্ষেপ এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
