শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
মাদারীপুরের শিবচর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এখন অনিয়ম, দুর্নীতি, জাল দলিল সম্পাদন,দাগনাম্বার ও শ্রেনী পরিবর্তন এবং ঘুষ বাণিজ্যের নিরাপদ দুর্গে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।”
শিবচর উপজেলার দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের সরকারের চর ঝাউকান্দি গ্রামের মৃত্যু নুরুল হক বেপারীর স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৪) বাদী হয়ে তিনি গত ১১/০৫/২৬ ইং তারিখে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,মাদারীপুরে উপস্থিত হয়ে, ৯ জনকে বিবাদী করা হয়। আসামীদের তালিকা। ১/রাবিয়া বেগম (৭৯) পিতা মৃত্যু ইমান উদ্দিন মাদবর,স্বামী-মৃত্যু দলিল উদ্দিন শিকদার,সাং-চর কাকইর, পোস্ট:হাট শিরুয়াইল,থানা: শিবচর,মাদারীপুর। ২/ রঙ্গী বেগম (৫৩) স্বামী মৃত্যু-আব্দুর রহিম ফকির,ঠিকানা-মস্তফাপুর দাই কান্দি, পোস্ট-মস্তফাপুর,থানা-মাদারীপুর সদর, জেলা- মাদারীপুর। ৩/মোঃ নুর ইসলাম (৪০) (দলিল শনাক্তকারী) ৪/ ফরহাদ শিকদার (৪৩) উভয় পিতা মৃত্যু-আবুল হোসেন শিকদার,সাং-সরকারেরচর,পোঃ-বহেরাতলা,থানা-শিবচর,জেলা-মাদারীপুর। ৫/ সুমন মিয়া (৪৪) পিতা-আঃ করিম বয়াতি,সাং-যাদুয়ারচর,পোঃ-বরহামগঞ্জ,থানা-শিবচর,জেলা- মাদারীপুর। ৬/ মোশারফ হোসেন (দলিল লেখক, সনদ নং-২৪/২০১৫) পিতা-মৃত্যু-আবুল হাসেম, সাং-আলেপুর,পোঃ-উমেদপুর,থানা-শিবচর,মাদারীপুর। ৬/ শ্রী বিউটি রানী,পিতা-বনমালী গো, প্রধান সহকারী,সাব-রেজিষ্টার অফিস,শিবচর,মাদারীপুর। ৮/ রাজিব মিয়া,শিবচর সাব-রেজিষ্টার অফিস স্টাফ,পিতা-অঙ্গাত। ৯/ মোঃ নুর আলম শিকদার ( বর্তমানে বরিশাল জেলার সাব-রেজিষ্টার অফিসে কমরত আছেন। শিবচরের সাব-রেজিস্ট্রার ও কেরানি শ্রী বিউটি রানীসহ মোট ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার সিআর-৩১২/২০২৬ (শিবচর) ধারা:৪২০/৪০৬/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪২৭/১০৯/৩৪ (দ.বি.)। বাদী ও গ্রহিতা মমতাজ বেগম মামলায় উল্লেখ্য করেন যে, উপরোক্ত আসামীগন পরস্পর ষরযন্ত্রকারী, প্রতারক, সরলবিশ্বভঙ্গকারী,পরধন লোভী, দুস্কমের সহযোগী,জাল-জালিয়াতকারী চক্রের সদস্য,ও আইন অমান্যকারী বটে। দৈনিক জনতার প্রতিনিধিকে বাদী মমতাজ বেগম বলেন,নিম্ন তফসিল বনিত শিবচর থানার ৪২ নং বড় নিলখী মৌজার বিআরএস ৬৯২/২ ও ৬৯২ নং খতিয়ানের ৪৫১৬ ও ৪৫২২ নং দাগের ভুমিতে ১ নং আসামী রাবিয়া বেগম রেকডিং মালিক থাকিয়া ৩ ও ৪ নং আসামীর মাধ্যমে উক্ত ভূমি হইতে ২২ শতাংশ ভূমি বিক্রয়ের প্রস্তাব দিলে বাদী এবং হান্নান হাওলাদার,আঃ সোবাহান মুন্সী,আসমা আক্তার ১ নং আসামীর সহিত কথাবার্তা বলে উক্ত জমি বিক্রয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। দলিল গ্রহিতাগন এবং ১/৩-৬ নং আসামীগন পরস্পর একই এলাকার পাশবতী গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় পরস্পর পূর্ব পরিচিত। ১ নং আসামী রাবিয়া বেগমের সহিত ৩-৫ নং আসামীগনের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় উক্ত জমি ২২ শতাংশ ভুমি বাবদ ৪০,০০,০০০/=(চল্লিশ লক্ষ) টাকা মূল্য নিধারিত হয় এবং গত ০৪/১০/২০২৪ ইং তারিখে বায়না বাবদ রাবিয়া বেগম ৪,৫০,০০০/ (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ) টাকা অগ্রীম গ্রহণ করেন। উক্ত জমি রেজিষ্ট্রির জন্য ১৬/১০/২০২৪ ইং তারিখ ও দিন ধার্য্য হইলে দলিলের বজায় মুল্যে ৪০,০০,০০০/ টাকা বাবদ যাবতীয় সরকারী ফি/পে-অডার/চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক শিবচর শাখায় প্রধান করা হয়। ১ নং শ্বাক্ষী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার,পিতা-মৃত্যু-মোঃ লাল মিয়া সরদার তিনি বলেন,এই দুর্নীতির সিন্ডিকেটের মূল হোতা খোদ কেরানি শ্রী বিউটি রানী। এই চক্রটি সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ধরাছোঁয়ার বাইরে কেরানি শ্রী বিউটি রানীর দাপটে কোন টুঁশব্দ করার সাহস করেন না খোদ কর্মকর্তারাও। অভিযোগ রয়েছে, কেরানি শ্রী বিউটি রানী তিনি এক বিশাল প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে কথা হয় ৩ নং আসামি ও শনাক্তকারী মোঃ নুরুল ইসলাম তিনি বলেন,অফিসের লোক জরিত। সুমন সরদার ও অফিসের লোক মিলে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রত্যারনা করেন। দলিল লেখক ও ভুক্তভোগীদের দাবী, কেরানি বিউটি রানীর নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘কমিশন’ না দিলে কোনো ফাইল সাব-রেজিস্ট্রারের টেবিলে পৌঁছায় না। পর্দার আড়ালে থেকে তিনি অফিসের যাবতীয় অবৈধ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করেন।”
কেরানি বিউটি রানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তাঁর মাধ্যমে ঘুষের অংক নির্ধারণ করেন। জমি ভেজালের অজুহাত দিয়ে বা কাগজপত্রে সামান্য ভুল দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা তার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। টাকা দিলে মুহূর্তেই ‘বৈধ’।”
অতিরিক্ত ফিস আদায়: সরকার নির্ধারিত ফি-র বাইরেও দলিল প্রতি ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
দলিল জালিয়াতি: মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিতর্কিত ও জাল দলিল নিবন্ধনের সুযোগ দাগ নাম্বার পরিবর্তন করে দেওয়া। ক্ষমতার দাপট দেখানো কেরানি বিউটি রানী সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলছেন না।” শিবচরের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবী। ভুক্তভোগী ও গ্রহিতা আসমা আক্তার বলেন,দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাই। নিবন্ধন পরিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
এ বিষয়ে সাব-রেজিষ্টার অফিসের প্রধান সহকারী শ্রী বিউটি রানী দৈনিক জনতা প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে অস্বীকার করেন।”