সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় জনদুর্ভোগসহ হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

প্রকাশিতঃ মে ২৩, ২০২৬, ১৬:৪৩

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে : ঢাকা – পাবনা নগরবাড়ি মহাসড়কে সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ার শ্যামলীপাড়ায় পৌরসভা কর্তৃক ময়লা ফেলার কারণে মহাসড়কের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে, জনদুর্ভোগসহ জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার শ্যামলীপাড়ায় মডেল মসজিদ, রংধনু স্কুল, বাখুয়া বিদ্যাপীঠ ও পৌর বাস টার্মিনালের পাশে মহাসড়কের উপরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে পৌর এলাকার প্রতিদিনের ময়লা ও আবর্জনা পৌর কর্তৃপক্ষের ময়লার গাড়ি দিয়ে ফেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ওই এলাকা এখন ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে শুধু পরিবেশ দূষিত হচ্ছে না, বরং জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। স্তূপ হয়ে থাকা বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্তুপ হওয়া ময়লাগুলো উপচে পড়ে মহাসড়কের উপরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। এতে প্রতিদিন শত শত যানবাহনের যাত্রীসহ হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করেন। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা নাকে রুমাল চেপে এই পথ পার হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই বর্জ্য এখন স্থানীয়দের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী পথচারীরা জানান, দিনের বেলা দুর্গন্ধ সহ্য করা গেলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকে পচা দুর্গন্ধ ময়লায় কুকুরের আনাগোনার কারণে মোটরসাইকেল ও রিকশা আরোহীরা প্রায়ই ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

বর্জ্যের কারণে মশা-মাছির উপদ্রব আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, এভাবে খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলায় এলাকায় ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।

উল্লাপাড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো, আশরাফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা এলাকার ময়লাগুলো ডাম্পিংয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কিছুদিন মহাসড়কের পাশে ফেলানো হয়েছিল। পরে, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা সেখান থেকে ময়লাগুলো সরিয়ে পরিস্কার করে দিয়েছি। তারপরও যদি কেউ আমাদের অজান্তে ফেলে, তাহলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। অতি দ্রুত সেখান থেকে ময়লাগুলো সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত নির্দিষ্ট ডাম্পিং এলাকা নির্ধারণ করে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি জনচলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে।