তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশিতঃ মে ২৪, ২০২৬, ০৪:৪৫

এস,এম সিপার, পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরে চলমান তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মানেই অসহনীয় গরম। তবে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে গত কয়েকদিনে। তাপপ্রবাহে ভস্মীভূত’ হওয়ার মতো অবস্থা। ফলে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে পিরোজপুরের জনজীবন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, কৃষক ও হকারদের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে। সূর্যের তাপ যেন তাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া মানেই তাপদাহের সঙ্গে যুদ্ব।

প্রচণ্ড রোদের তাপে জেলার বিভিন্ন সড়কের বিটুমিন ( পিচ) গলে চরম দুভোগে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। যান চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকরা পড়ছেন বেশি বিপাকে। অনেক স্থানে সড়কের বিটুমিন (পিচ) চাকার সঙ্গে লেগে উঠে আসছে।
কোথাও যানবাহনের চাকা পিচের সঙ্গে আটকে যাচ্ছে,এবং সড়কের উপরের স্তর উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ।

পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা
ইউনিয়নের রিকশাচালক সবুজ বলেন, ‘তীব্র গরমে রিকশা চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মাথায় গামছা পেঁচিয়ে রিকশা চালাতে হচ্ছে। এ ছাড়া রাস্তার পিচ গলে যাওয়ায় টায়ার দেবে যাচ্ছে।’

হুলারহাটের অটোচালক ইব্রাহিম বলেন, ‘গরমে রাস্তার পিচ গলে যাওয়ায় গাড়ির টায়ারে নানা সমস্যা হচ্ছে। টায়ার লিক হচ্ছে, অনেক সময় গরমে ব্লাস্টও হয়ে যাচ্ছে।

শুধু যানবাহন চালকরাই নন, পথচারীরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অনেকের জুতা ও স্যান্ডেলের সঙ্গে গলে যাওয়া পিচ লেগে যাচ্ছে।

ছোট ভাইজোড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে রাস্তার পিচ গলে যাওয়ায় হাঁটাচলা করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। জুতা-স্যান্ডেলে পিচ লেগে যাচ্ছে, ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

বাসচালক মিন্টু বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে সড়কের পিচ নরম হয়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও পিচ গলে রাস্তা পিচ্ছিলও হয়ে পড়ে। তাই খুব সতর্কভাবে গাড়ি চালাতে হয়। সামান্য অসাবধানতাতেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বছর তাপমাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অনুভূত হচ্ছে, তাই আমরা সাবধানে গাড়ি চালাচ্ছি।

দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া মানেই তাপদাহের সঙ্গে যুদ্ধ।

এর ফলে স্বাস্থ্যখাতেও চাপ বাড়ছে। হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডাঃ মসিউর রহমান বলেন, এই সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার খাওয়া এবং সরাসরি রোদে বের না হওয়াই শ্রেয়।

তীব্র গরমের এই বাস্তবতা আমাদের শুধু কষ্টই দিচ্ছে না, ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তাও দিচ্ছে।
পরিবেশ রক্ষা না করলে আমাদের জনজীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

এদিকে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পুরো পিরোজপুর জেলা।দিনের অধিকাংশ সময় রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা দেখা যাচ্ছে। জনজীবনে নেমে এসেছে এক ধরনের স্থবিরতা।