শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ নাজিরপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সভা

নাজিরপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সভা

পিরোজপুর প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পিরোজপুরে নাজিরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে উৎসবমুখর পরিবেশে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়।

বিকেল ৪ টা থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বাদ্য যন্ত্র নিয়ে রং ভেরংয়ের পোশাক পরিধান করে উপজেলা সদরের বিভিন্ন পয়েন্টের রাস্তা গুলিতে নেতা কর্মীদের পদচারনায়
মুখরিত হয়ে উঠে।

বিকেল ৫ টায় উপজেলা পরিষদ গেটে থেকে শুরু হওয়া র‌্যালি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে টাইম টাওয়ার মাঠে সামনে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

আলোচনা সভায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তাওহীদুল ইসলাম ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান শরীফের সঞ্চালনায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল করিম লিটন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলমগীর হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসাবে রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসান খান।
বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম ফরাজী,মোঃ সফিকুল ইসলাম
( সাফিক),শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক নাছির আহমেদ মল্লিক,সদস্য সচিব অনুপ কুমার সিকদার, যুবদলের সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান খান রিপন, ছাএদলের সাবেক আহবায়ক ও যুবনেতা

এস,এম মাজেদুল কবীর (রাসেল),সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান, ছাত্রদল আহবায়ক এইচ এম শামিম হাসানসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ দলের অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ইতিহাসের সত্যকে লালন করা এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের পথে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক কালজয়ী নাম। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা এবং ‘জেড ফোর্স’-এর অধিনায়ক হিসেবে তাঁর বীরত্ব জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণিত করেছিল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়ে তিনি একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন, খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি ও শিল্প বিপ্লব এবং ‘সার্ক’ গঠনের মতো দূরদর্শী পদক্ষেপে তিনি দেশকে স্বাবলম্বী করে তোলেন।

​বক্তারা আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। রাতের ভোট, গুম-খুন, ‘আয়নাঘর’, বাকস্বাধীনতা হরণ এবং মেগা প্রজেক্টের নামে অর্থ পাচার ও ব্যাংক খাত লুটপাটে দেশ বিপর্যস্ত হয়। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো—তারা বিগত শাসনের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে টেনে তুলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার প্রক্রিয়ার কাজ সফলভাবে শুরু করেছে।

বক্তারা ​নেতাকর্মীদের আহবান জানান,আসুন শহীদ জিয়ার দেশপ্রেম ও স্বাবলম্বিতার চেতনাকে ধারন করে, অপশাসন রুখে দিয়ে একটি সুখী ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গঠনে সবাই এগিয়ে আসি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা