বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ রাজনীতি সংসদে বিরোধীদলীয় নেতাকে ১৫০ টাকার লাঞ্চের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতাকে ১৫০ টাকার লাঞ্চের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদে তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটসহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ৬৮ বিধির আওতায় সাধারণ আলোচনা চলছিল। এই আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের মধ্যে এক কৌতূহলোদ্দীপক কথোপকথন ও লাঞ্চের দাওয়াতের ঘটনা ঘটে।

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর স্বল্পমূল্যের দুপুরের খাবারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যখন দেখা যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, তখন সাধারণ মানুষ হিসেবে তাঁরা উৎসাহিত হন। এত কম টাকায় তিনি নিজেও খেতে পারেন না বলে অকপটে স্বীকার করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার মুখে এই প্রশংসা শুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাত দিয়ে ইশারা করে বলেন, ‘আসুন, খাওয়াব।’ একই সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও মাইক ছাড়া মুখে বলেন, ‘আপনাকে খাওয়ানো হবে।’ এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইশারা করেন।

জবাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘খাওয়ায় দেবেন? অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু আমি তো একা খাব না। আমি তো ১৮ কোটি মানুষ নিয়ে খেতে চাই। আমি সবাইকে নিয়ে খেতে চাই। তারপরও ধন্যবাদ এই প্রস্তাবটি দেওয়ার জন্য।’

প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ জীবনযাপনের প্রশংসা করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাদামাঠা জীবন যাপন করেন, যা দেখতে সুন্দর লাগে। তিনি কোনো জাঁকজমকপূর্ণ বা স্যুট-বুট পরা বেশে চলেন না, বরং সাধারণ পথেই চলেন। এটি সত্যিই সবার জন্য উৎসাহিত হওয়ার মতো একটি বিষয়।

তবে প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপনের প্রশংসা করলেও তাঁর অনুসারীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে ছাড়েননি শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপন নিয়ে প্রশংসা করেন, তাদের আবার উল্টোপাল্টা চলতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিই তাদের আইকন হয়ে থাকেন, তবে সব ক্ষেত্রেই তাঁকে অনুসরণ করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও মন্তব্য করেন, এখন থেকে কাউকে আইকন বলার আগে ভেবেচিন্তে বলা উচিত এবং আইকন বললে অবশ্যই তাঁকে অনুসরণ করতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে প্রধানমন্ত্রীও একজন মানুষ এবং তিনি ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাই তাঁর সবকিছুতেই চোখ বন্ধ করে ‘হ্যাঁ’ বলা যাবে না। কেবল শিশুদের দাবির ক্ষেত্রেই সবসময় ‘হ্যাঁ’ বলা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা