বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ দুই ছাত্রের বাবার মামলা, ৩ মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেফতার

শরীরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা

দুই ছাত্রের বাবার মামলা, ৩ মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেফতার

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার পশ্চিম ঝাঝর এলাকায় দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে মারধরের পর গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মাদ্রাসাতু দারুত তাকওয়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর পরিবার গাছা থানায় মামলা করার পর তিন শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাছার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শোয়াইব আহমেদ (২৬), মো. হাবিবুর রহমান (২৬) ও মো. শাহিন (১৯)। এর মধ্যে শোয়াইব হোসেন আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়ার পরিচালক, হাবিবুর রহমান ও শাহিন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন- কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার একজন (১৩), অপরজন শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার (১৩)। এ ঘটনায় গাছা থানায় মামলা করেছেন দুই শিক্ষার্থীর বাবা। কাজ ও চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে গাজীপুরের ঝাঝর এলাকায় বসবাস করে তাদের পরিবার।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মাদ্রাসাতু দারুত তাকওয়ায় পড়াশোনা করে ওই দুই শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজন গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় নিজের বাসায় আসে। এ সময় বাবা দেখতে পান ছেলে হাঁটতে ও বসতে পারছে না। কারণ জিজ্ঞেস করলে জানায়, কোমরে ফোঁড়া হয়েছে। পরদিন ফোঁড়ার জায়গাতে ওষুধ লাগানোর চেষ্টা করলে ছেলে অপারগতা প্রকাশ করে। একপর্যায়ে জোর করে ওষুধ দিতে গিয়ে বাবা দেখতে পান কোমরে আগুনে পোড়া জখমের দাগ। জিজ্ঞেস করলে ছেলে জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে মাদ্রাসা মাঠে খেলাধুলা করার সময় এক ছাত্রের পায়জামা অসাবধানতাবশত খুলে যায়। পরে মাদ্রাসার পরিচালক শোয়াইব আহমেদ বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করে একপর্যায়ে লোহার গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেন।

অপর মামলার এজাহারে আরেক ছাত্রের বাবা উল্লেখ করেছেন, একই দিন একই ঘটনায় তার ছেলেকে শিক্ষক শোয়াইব একটি কক্ষে আটকে রেখে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেন। পরে তার হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে এবং পোশাক খুলে বাঁশের কঞ্চি মারধর করে তলপেটে লোহার গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে জখম করেন।

গাছা থানার ওসি গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এক ছাত্রের বাবার করা মামলায় শিক্ষক শোয়াইবকে শুক্রবার গ্রেফতার করে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবার করা মামলায় শনিবার হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।’

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা