শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ সাইবার আইনে জিনিয়ার মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

ছাত্রশক্তির নেত্রীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য

সাইবার আইনে জিনিয়ার মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার : জাতীয় ছাত্রশক্তির নেত্রী ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নারী নেত্রী সুমাইয়া আক্তার জিনিয়া শারমিন রিয়াসকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে পাল্টাপাল্টি আইনি কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

একদিকে জিনিয়াকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, অন্যদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন।

এ আবেদনে কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকা দুই পেশাদার সাংবাদিককে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, কোনো সংবাদকর্মী ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলে কেবল ব্যক্তিগত আক্রোশ বা পেশাগত বিরোধের কারণে তাকে মামলায় জড়ানো উচিত নয়। একই সঙ্গে মামলার অভিযোগ, আসামিদের সম্পৃক্ততা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জিনিয়াকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে সাইবার মামলা জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নেত্রী সুমাইয়া আক্তার জিনিয়া শারমিন রিয়া নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসবুকসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জিনিয়াকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর বক্তব্য পোস্ট ও প্রচার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনের প্রযোজ্য ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিবিআইয়ের সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত দল ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করবে বলে জানা গেছে।

তদন্তকারী সংস্থাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার নম্বর, সুনির্দিষ্ট আইনি ধারা, আসামিদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও আদালতের আদেশের বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রতিবাদী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দ্রুত বিচার আইনে আবেদন এদিকে, ফেসবুক লাইভে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক নারী নেত্রীকে নিয়ে আইনজীবীর বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আইনজীবী মোসলেম উদ্দিনের টাঙানো ছবিতে কিছু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী জুতা নিক্ষেপ করেন।

এ ঘটনায় ১০ দিন পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে এনসিপি নেত্রী ও জুলাইযোদ্ধা জিনিয়া শারমিন রিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা নিষ্পত্তির আবেদন করেন। আবেদনে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করার কথা উল্লেখ রয়েছে। মামলায় দুই সাংবাদিক, উঠেছে হয়রানির অভিযোগ মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক আমার সংবাদ-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল হালিম এবং দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ-এর জেলা প্রতিনিধি শামসুল আলম শ্রাবণ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঘটনার সময় দুই সাংবাদিকই কর্মসূচিস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার দিন মোহাম্মদ আবদুল হালিম গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। স্বজনদের দাবি, তিনি প্রায় অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

অপরদিকে, শামসুল আলম শ্রাবণ ওই সময় নিজ বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

দুই সাংবাদিকের দাবি, মানববন্ধন ও জুতা নিক্ষেপের ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ কিংবা সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই না করেই তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে কক্সবাজারের একটি স্থানীয় ফেসবুক লাইভ সাক্ষাৎকারে এনসিপি নেত্রী ও জুলাইযোদ্ধা জিনিয়া শারমিন রিয়াকে নিয়ে আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এর প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রসমাজ ও জুলাইযোদ্ধারা মানববন্ধন এবং ছবিতে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে দ্রুত বিচার আইনে মামলার আবেদন করা হয়।
সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও প্রশ্ন ঘটনার পর কক্সবাজারের সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের বক্তব্য, সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো পক্ষের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার করা উচিত নয়।

তাদের অভিযোগ, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে হয়রানি করতে দ্রুত বিচার আইনের মতো গুরুতর আইন ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

সাংবাদিক নেতারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ এবং সংবাদকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সাংবাদিকদের দাবি, মামলার আবেদনে যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হোক। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ, হাসপাতালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, জিনিয়াকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা সাইবার মামলায় পিবিআইয়ের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা