শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ বিএমইটি পরিচালক ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অঢেল অবৈধ সম্পদের লিখিত অভিযোগ

বিএমইটি পরিচালক ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অঢেল অবৈধ সম্পদের লিখিত অভিযোগ

আবু জাফর: জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. আবু জাফর।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিএমইটি পরিচালক মো. মাসুদ রানা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হওয়ার কারণে নানা অনিয়ম করেও এখনও বহাল তবিয়তে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় চাকরি করছেন।
তার নানা অনিয়মের কারণে গোটা বিএমইটি কর্মকর্তার অস্থির হয়ে পড়ছেন। ঘুষ ছাড়া তিনি কোন ফাইলেই সই করেন না। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সুুফিয়া জাহান মুুন্নী সাথে সখ্যতা গড়ে নির্ভয়ে দু’হাত ভরে অবৈধ টাকা কামিয়েছেন। দুদক ছাড়াও মাসুদ রানার বিরুদ্ধে তারই মন্ত্রণালয়ে আরো বেশ কিছু অভিযোগ করা হয়েছে। বিএমইটি কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। একজন পরিচালক হয়ে কিভাবে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তা নিয়ে বিস্বয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। গত ১২ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব-এর কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগটি দায়ের করেন জনৈক মিন্টু মিয়া।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিএমআইটির মো. মাসুদ রানা দীর্ঘ দিন ধরে প্রভাবশালী মহলের সুযোগ নিয়ে বিডির রিত্রুুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশগামী শ্রমিকদের ফাইল আটরেক অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন। এছাড়া সারাদেশে অবস্থিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ ও কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও তোলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগের তথ্যানুযায়ী, মো. মাসুদ রানা নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী উন্মে ছালমা শেখেে নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিআইএন নম্বর সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ্য করে তাঁদের নামে-বেনামে অর্জিত সম্পদের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়, মাসুদ রানা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, নিকেতন ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, উত্তরায় দুটি বাড়ি, সাভারে জমি এবং গ্রামের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিডির ব্যাংকে অর্থ জমা এবং বিদেশে ব্যবসা ও স্থাবর সম্পদে বিনিয়োগের বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর মতে, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রায় ৪ থেকে ৫শ’ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।উত্তাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পরিচালক মো. মাসুদ রানার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা